বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আসিফ মাহমুদ ও স্ত্রীর সম্পদের হিসাব তলব করল দুদক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম

আসিফ মাহমুদ ও স্ত্রীর সম্পদের হিসাব তলব করল দুদক

ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার পান্নার দেশ-বিদেশে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও অর্থপাচার সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সংস্থাটি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে বিস্তারিত বিবরণ সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে। 

বৃহস্পতিবার দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সাবেক এই উপদেষ্টা, তার স্ত্রী এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড চাওয়া হয়। দুদকের অনুসন্ধান দল অভিযোগের সত্যতা নিবিড়ভাবে যাচাই করছে। সংস্থাটির দাপ্তরিক নথিতে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, দেশে কোম্পানি গঠন, বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ ও বিদেশে অর্থপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 

চিঠিতে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব, লেনদেনের ইতিহাস, ঋণের তথ্য, স্থায়ী আমানত বা এফডিআর, ডিপিএস এবং সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য আর্থিক বিনিয়োগের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দ্রুত সরবরাহ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে অবৈধভাবে জমি ক্রয়, অর্থপাচার এবং বেনামে শেল কোম্পানি খোলার মতো গুরুতর অভিযোগও নথিতে আনা হয়েছে। এসব রাষ্ট্রে তাদের কোনো সম্পদ, আর্থিক বিনিয়োগ বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অস্তিত্ব রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যাচাইয়ের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে বিএফআইইউকে অনুরোধ করা হয়।

এর আগে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালীন বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিতে অনিয়মের প্রাথমিক অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন। পরবর্তীতে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে আরও একগুচ্ছ নতুন অভিযোগ অনুসন্ধানের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সংস্থাটি। 

নতুন অনুসন্ধানের আওতায় স্থানীয় সিটি করপোরেশনে লোকবল নিয়োগ, মাঠ প্রশাসনে জেলা প্রশাসক পদায়ন, সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়া, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, আর্থিক ঘুষ লেনদেন ও অর্থপাচারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দুদক জানিয়েছে যে অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রতিটি সুনির্দিষ্ট দাবির তথ্যগত সত্যতা নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের মাধ্যমে খতিয়ে দেখেই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।