বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬,

ফেসবুক লাইভে আসবেন আসিফ মাহমুদ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম

ফেসবুক লাইভে আসবেন আসিফ মাহমুদ

ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাঁর বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন পদে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে অনিয়ম এবং বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় ফেসবুক লাইভে আসছেন তিনি।

সন্ধ্যায় লাইভে ব্যাখ্যা দেবেন তিনি। জাতীয় নাগরিক পার্টির মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়, একটি বিশেষ রাজনৈতিক মহলের অপপ্রচারের ভিত্তিতে এই ধরনের ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ তোলা হয়েছে। এসব অনুসন্ধান ও অভিযোগের বিষয়ে দলের মুখপাত্র সরাসরি জনগণের সামনে বক্তব্য তুলে ধরবেন। এর আগে রোববার দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ তানজির আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, প্রাপ্ত নতুন অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই শেষে চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক পদে পদায়নে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং সারাদেশে ৩৬ জন জেলা প্রশাসক পদায়নে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি। এর পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ হারে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের বিষয়টিও তদন্তের তালিকায় রয়েছে।

এছাড়া ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপের কাজের বরাদ্দ এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক নিয়োগ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে আব্দুস সালামকে বসাতে ১০ কোটি টাকা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খানের ক্ষেত্রে ৫২ কোটি টাকা এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ খানের নিয়োগে ৬৫ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় খরচে অতিরিক্ত হেলিকপ্টার ভ্রমণ এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনের অভিযোগও তদন্তাধীন। শুরু থেকেই এসব অভিযোগকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করে আসছেন সাবেক এই উপদেষ্টা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অ্যাকাউন্টে এক বার্তায় তিনি ব্যঙ্গাত্মক সুরে উল্লেখ করেন, বিদেশে অনুসন্ধানে কোনো অর্থ পাওয়া গেলে সেখান থেকে তাঁকে যেন অন্তত ১০ শতাংশ দেওয়া হয়।