নভেম্বর ৪, ২০২৬, ১১:২৬ এএম
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষ যেন নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে তাদের জন্য সম্পূরক পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে এই বিশেষ সম্পূরক পরীক্ষা শুরু করার প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার কার্যক্রম শেষে চলতি ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান সম্পূরক পরীক্ষার এ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, মঙ্গলবারের বৈঠকে সম্পূরক পরীক্ষার আনুমানিক তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে। পরীক্ষার পুরো আয়োজন, অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নির্দেশাবলী জানিয়ে বুধবার (৪ নভেম্বর) শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
শিক্ষা বোর্ডের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, নির্ধারিত নিয়মানুযায়ী সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীরাই কেবল এই সম্পূরক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। শুধু চলতি ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরাই নন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীরাও এ পরীক্ষায় বসতে পারবেন।
তবে পূর্ববর্তী বছরগুলোর শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। তাদের অবশ্যই ২০২৬ সালের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে হবে অথবা চলতি বছরের জন্য বৈধ বোর্ড নিবন্ধন থাকতে হবে। অর্থাৎ, শর্ত পূরণ সাপেক্ষে টানা দুই বা তিন বছর ধরে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে আসা নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীরাও সম্পূরক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে দুইয়ের অধিক বা তিন বিষয়ে অকৃতকার্য হলে কোনোভাবেই এ সুযোগ পাওয়া যাবে না।
আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি সূত্রে আরো জানা গেছে, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই সম্পূরক পরীক্ষার ফরম পূরণ কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৮ নভেম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের সুযোগ রাখা হতে পারে। একই সাথে ১ নভেম্বর থেকে ২০ নভেম্বরের মধ্যে সম্পূরক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সব কাজ সম্পন্ন করার সময়সীমা ধরা হয়েছে।
এর আগে গত ৩১ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এ ধরনের সম্পূরক পরীক্ষা আয়োজনের ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন। পরীক্ষার্থীদের জীবনের একটি মূল্যবান শিক্ষাবর্ষ যাতে অপচয় না হয়, সে বিবেচনা থেকেই সরকার এই তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেছিলেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সর্বমোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে পরীক্ষায় পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী। অন্যদিকে বিভিন্ন বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন মোট ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। এই অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে শর্ত পূরণকারী শিক্ষার্থীরাই আসন্ন সম্পূরক পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন