নভেম্বর ৩, ২০২৬, ১১:৫২ পিএম
জাবিতে পরিচালক নিয়োগ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের (সিএলসি) নতুন পরিচালক পদায়ন ঘিরে প্রশাসনিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেন ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।
পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন এবং ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে অবরুদ্ধ থাকা উপাচার্যসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বের করে আনেন।
মঙ্গলবার বেলা তিনটা থেকে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের প্রবেশপথে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেন। তাদের মূল দাবি ছিল, ইনস্টিটিউটের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকেই পরিচালক মনোনীত করতে হবে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ইনস্টিটিউটের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহজালাল মাহমুদ জানান, নিজস্ব বিভাগ থেকে অভিজ্ঞ শিক্ষককে পরিচালক করা তাদের একটি স্বাভাবিক ও যৌক্তিক দাবি। কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে তারা আসেননি বরং পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতেই এই দাবি জানাচ্ছেন। তিনি বলেন, নতুন এই ইনস্টিটিউটের অগ্রগতির জন্য নিজস্ব শিক্ষকদের নেতৃত্বেই একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া উচিত।
সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনে পূর্বনির্ধারিত সিন্ডিকেট সভা শুরু হয়েছিল। বৈঠক শেষে সন্ধ্যার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম বের হতে গিয়ে ফটক তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবরের নেতৃত্বে সংগঠনের একদল নেতাকর্মী সেখানে এসে উপস্থিত হন। তারা ফটকের তালা ভেঙে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যসহ অবরুদ্ধ কর্মকর্তাদের বাইরে নিয়ে আসেন এবং উপাচার্যকে ঢাকার নির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য গাড়িতে তুলে দেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি তাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক দায়িত্ব দিয়েছেন এবং তিনি প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক হিসেবে কাজ করছেন। শিক্ষার্থীদের যেকোনো দাবি বা অভিযোগ থাকলে তারা সরাসরি কথা বলতে পারতেন, কিন্তু প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা তৈরির কোনো এখতিয়ার তাদের নেই। তালা লাগানোর ঘটনায় জড়িত এবং নেপথ্যে ইন্ধনদাতা শিক্ষকদের চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর দাবি করেন, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর ও বিতর্কিত রাজনৈতিক সুবিধাভোগী কিছু অনুসারী এই আন্দোলনের নেপথ্যে রয়েছে। তার ভাষ্য মতে, একটি পক্ষ উপাচার্যের সঙ্গে দাবি নিয়ে আলোচনার পর সিন্ডিকেট চলাকালে শিক্ষক হামীমের অনুসারীরা ভবনে তালা দেয়। এ খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে তালা ভেঙে উপাচার্যকে নিরাপদে গাড়িতে তুলে দেন।
এর আগে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অফিস আদেশের মাধ্যমে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে ইনস্টিটিউটের পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পূর্ববর্তী পরিচালক অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য মনোনীত হওয়ায় তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন এই নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়।
এই সিদ্ধান্তের পর ইনস্টিটিউটের অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল হক হামীম এই পদায়নের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানান। তার যুক্তি ছিল, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষত্ব ও বিভাগের শিক্ষকদের মতামতকে বিবেচনায় রেখেই এই পদে দায়িত্ব দেওয়া সমীচীন ছিল।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন