বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬,
স্বাস্থ্য সচেতনতা

ফুসফুসের ক্যানসারে নারীদের ঝুঁকি বাড়ছে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৩, ২০২৬, ১১:২০ পিএম

ফুসফুসের ক্যানসারে নারীদের ঝুঁকি বাড়ছে

ছবি: সংগৃহীত

ফুসফুসের ক্যানসারে নারীদের ঝুঁকি নিয়ে প্রচলিত চিকিৎসা ধারণায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। সমাজে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশ্বাস চালু ছিল যে ফুসফুসের ক্যানসারে মূলত ধূমপায়ী পুরুষরাই বেশি আক্রান্ত হন। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। জীবনে কখনো ধূমপান করেননি এমন বহু নারী এখন আশঙ্কাজনক হারে এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন।

বায়ুদূষণ, পরোক্ষ ধূমপান এবং জিনগত পরিবর্তনের মতো অদৃশ্য কারণগুলো নারীদের এই ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিজ্ঞান সাময়িকী দ্য ল্যানসেট রেসপিরেটরি মেডিসিনে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২২ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৫ লাখ মানুষ ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে নারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৯ লাখ ৮ হাজার। আক্রান্ত নারীদের প্রায় ৬০ শতাংশের শরীরেই অ্যাডেনোকার্সিনোমা নামের বিশেষ ধরনের ফুসফুস ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে। গবেষণায় এই ক্যানসারের বৃদ্ধির সঙ্গে পারিপার্শ্বিক বায়ুদূষণের গভীর সম্পর্কের প্রমাণ মিলেছে।

একই ধরনের চিত্র পাওয়া গেছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, নারীদের ক্ষেত্রে শনাক্ত হওয়া ফুসফুসের ক্যানসারের প্রায় ৫২ দশমিক ৭ শতাংশই অ্যাডেনোকার্সিনোমা।

বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্ম ধূলিকণা বা পিএম ২.৫ মানবদেহের শ্বাসনালী ভেদ করে ফুসফুসের গভীরে পৌঁছায়। কলকারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া, যানবাহনের গ্যাস, নির্মাণস্থলের ধুলাবালি এবং রান্নার সময় কাঠে তৈরি ধোঁয়ার ক্ষুদ্র কণাগুলো ফুসফুসে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি করে। সময়ের ব্যবধানে এই প্রদাহ থেকেই কোষে অস্বাভাবিক রূপান্তর ঘটে।

পাশাপাশি পরিবারে কারও ধূমপানের কারণে পরোক্ষ ধোঁয়ার শিকার হওয়া, রেডন গ্যাস, অ্যাসবেস্টস ও আর্সেনিকের সংস্পর্শ এবং জিনগত প্রবণতাও সমান ভূমিকা রাখছে।

অনেক সময় প্রাথমিক উপসর্গ অবহেলার কারণে রোগ শনাক্তে মারাত্মক দেরি হয়ে যায়। সাধারণত কয়েক সপ্তাহের কাশি, শ্বাসকষ্ট বা বুকে মৃদু ব্যথাকে সাধারণ অ্যালার্জি কিংবা হাঁপানি ভেবে চিকিৎসা এড়িয়ে যান আক্রান্তরা। চিকিৎসকদের মতে, অকারণে ওজন হ্রাস, কাশির সঙ্গে রক্ত বের হওয়া, ক্রমাগত শ্বাসকষ্ট বা ঘন ঘন বুকে ঠান্ডা লাগার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

রোগের বিস্তার ও ধরন নির্ণয়ের পর অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপির পাশাপাশি বর্তমানে প্রয়োগ করা হচ্ছে উন্নত ইমিউনোথেরাপি ও টার্গেটেড থেরাপি। বিশেষ করে ইজিএফআর মিউটেশন ও এএলকে জিনের পরিবর্তন পরীক্ষার মাধ্যমে রোগীদের জন্য সুনির্দিষ্ট ওষুধ নির্ধারণ সম্ভব হচ্ছে।

তবে লক্ষণ প্রকাশ না পাওয়া পর্যন্ত সব অধূমপায়ী নারীর ক্ষেত্রে নিয়মিত সিটি স্ক্যান করার প্রয়োজন নেই বলেই মত দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ঘরের ভেতর পর্যাপ্ত আলো-বাতাস নিশ্চিত করা, রান্নার জন্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং জনসমাগম বা ধোঁয়াযুক্ত এলাকায় সতর্ক থাকাই পারে আক্রান্তের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমিয়ে আনতে।