নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০৮:০২ পিএম
ব্রেস্ট বা স্তন ক্যানসারের নাম শুনলেই সাধারণ মানুষের চোখের সামনে ভেসে ওঠে স্তনের ভেতর কোনো শক্ত চাকা বা লাম্পের অস্তিত্ব। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, এই মরণব্যাধি যে সবসময় অনুভূত কোনো শক্ত চাকা দিয়েই শুরু হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
চিকিৎসকদের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে প্রাথমিক লক্ষণ কোনো দৃশ্যমান টিউমার নয়, বরং স্তনের ত্বকের বাহ্যিক পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
এর পাশাপাশি স্তন ক্যানসারের আধুনিক চিকিৎসার ফলেও প্রায় ৯৪ শতাংশ রোগীর ত্বক, চুল এবং নখে নানামুখী দৃশ্যমান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ নজরে এলে প্রাথমিক অবস্থাতেই অভিজ্ঞ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউট-এর তথ্য অনুসারে, সাধারণত যেকোনো একটি নির্দিষ্ট স্তনে এই বিশেষ পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করা যায়।
প্রথমত, স্তনের ত্বকে কালচে বা লালচে ছোপ পড়া কিংবা স্থায়ী র্যাশ দেখা দেওয়া, যা সাধারণ চিকিৎসায় দীর্ঘদিনেও দূর হয় না।
দ্বিতীয়ত, আক্রান্ত স্তনের চামড়া হঠাৎ ফুলে ওঠা, স্পর্শ করলে অস্বাভাবিক উষ্ণ অনুভূতি হওয়া কিংবা ছোট ছোট ছিদ্রসহ পুরো ত্বক কমলালেবুর খোসার মতো কুঁচকে যাওয়া।
তৃতীয়ত, নিপলের স্বাভাবিক গঠনে আকস্মিক পরিবর্তন আসা কিংবা স্তনবৃন্ত ভেতরের দিকে দেবে যাওয়া অন্যতম প্রধান সতর্কবার্তা।
সব ক্ষেত্রে এ ধরনের পরিবর্তন ক্যানসার নাও হতে পারে। তবে উপসর্গগুলো যদি দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেয়, তবে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, ত্বকের এই নির্দিষ্ট উপসর্গগুলো সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ইনফ্লেমেটরি ব্রেস্ট ক্যানসার বা আইবিসি নামের বিশেষ ধরনের ক্যানসারে। এটি অত্যন্ত বিরল কিন্তু মারাত্মক আক্রমণাত্মক বা এগ্রেসিভ প্রকৃতির রোগ।
এই ধরনের ক্যানসারে কোনো শক্ত চাকা তৈরি হয় না বলে প্রচলিত ম্যামোগ্রাম পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক অবস্থায় রোগটি শনাক্ত করা অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়ে।
অনেক সময় সাধারণ চিকিৎসকেরা একে ভুলবশত স্তনের সাধারণ ইনফেকশন কিংবা একজিমা বলে মনে করেন।
নিয়মিত অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের পরও যদি ত্বকের ফোলা ভাব বা র্যাশ নিরাময় না হয়, তবে পাঞ্চ বায়োপসি পরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগ নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা হয়।
ক্যানসারের আধুনিক চিকিৎসার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন ধরনের শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়।
রেডিয়েশন থেরাপির ফলে স্তনের ত্বক অত্যধিক লাল হয়ে সানবার্নের মতো রূপ নিতে পারে এবং সেখানে তীব্র চুলকানি ও ফোসকা দেখা দিতে পারে। এ সময় সুতির ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান ও চিকিৎসকের পরামর্শে গন্ধহীন মাইল্ড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।
চিকিৎসাধীন প্রায় ৭০ শতাংশ রোগীর জন্য সবচেয়ে বড় মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায় দ্রুত চুল পড়ে যাওয়া।
কেমোথেরাপির সময় স্ক্যাল্প কুলিং প্রযুক্তির বিশেষ ক্যাপ ব্যবহার করলে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে চুল পড়ার এই সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
একইভাবে কেমোথেরাপির তীব্র প্রভাবে চোখের ভ্রু ও পাপড়ির ঘনত্ব পাতলা হয়ে যেতে পারে। তবে ক্যানসারের নিয়মিত চিকিৎসা সম্পন্ন হওয়ার পর মিনোক্সিডিল বা বিশেষ থেরাপির সহায়তায় এ সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন