মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬,

জমি লিখে নিয়ে ৯৫ বছরের বাবাকে গাছের নিচে ফেলল ৬ সন্তান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম

জমি লিখে নিয়ে ৯৫ বছরের বাবাকে গাছের নিচে ফেলল ৬ সন্তান

ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় সহায়-সম্পত্তি সন্তানদের মধ্যে বিলিবণ্টন করে দেওয়ার পর বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়েছেন পঁচানব্বই বছর বয়সী এক বৃদ্ধ পিতা। ছয় সন্তানের কেউই তার দায়িত্ব গ্রহণ করতে রাজি না হওয়ায় শেষ বয়সে বসতবাড়ির পাশের একটি গাছের তলায় আশ্রয় নিতে হয়েছে হাজী শামসুল হক মোল্লা নামের ওই বৃদ্ধকে।

ভুক্তভোগী শামসুল হক মোল্লা উপজেলার উত্তর হিরন গ্রামের প্রয়াত ওমেদ আলী মোল্লার ছেলে।

তিনি দুই পুত্র ও চার কন্যার জনক।

তার বড় ছেলে আজিজুল মোল্লা পেশায় ফেরিওয়ালা এবং ছোট ছেলে রেয়াজুল মোল্লা যাত্রীবাহী বাসের সহকারী হিসেবে কাজ করেন।

চার কন্যাসন্তানের মধ্যে মায়া বেগম, সাবিনা বেগম ও সালমা বেগমের বিয়ে হয়েছে। ছোট মেয়ে কাজুলী বেগম একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে নিজের কিছু জমি বিক্রি করে হজে যান শামসুল হক। সে সময় অবশিষ্ট যাবতীয় জমিজমা ও স্থাবর সম্পত্তি সন্তানদের নামে ভাগ করে লিখে দেন তিনি।

তবে বর্তমানে বিপত্নীক এই অশীতিপর বৃদ্ধের ভরনপোষণের দায়িত্ব নিতে নারাজ সন্তানরা। শারীরিক প্রতিবন্ধী ছোট মেয়ে কাজুলী ছাড়া বাকি পাঁচ সন্তান নিজেদের পৃথক সংসার নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বিগত কয়েক দিন বড় মেয়ে মায়া বেগমের আশ্রয়ে ছিলেন শামসুল হক।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে মায়া বেগম তাকে দুই ভাইয়ের বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর দুই ভাই ও তাদের স্ত্রীরা মিলে বৃদ্ধ বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে খোলা আকাশের নিচে একটি গাছের তলায় রেখে দেন। এই অমানবিক ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।

দায়িত্ব এড়িয়ে বড় মেয়ে মায়া বেগম দাবি করেন, তার নিজের স্বামী শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং বাড়িতে প্রতিবন্ধী ছোট বোন কাজুলীও তার আশ্রয়ে থাকে, যার কারণে বাবার ভার বহন করা তার একার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে মেজ মেয়ে সাবিনা বেগমের ভাষ্য, জমি বিক্রির অর্থ থেকে বাবা চার বোনকে চার লাখ টাকা করে দিয়েছেন এবং দুই ভাইকে নগদ অর্থসহ আট কাঠা করে জমি দিয়েছেন। জমি বেশি পেয়ে ভাইয়েরা কেন বাবার দেখাশোনা করবে না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে দুই ছেলে আজিজুল ও রেয়াজুলের বাড়িতে গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি। তাদের স্ত্রীরাও এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সামনে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

প্রতিবেশীরা জানান, জমিজমা সব লিখে নেওয়ার কারণেই সন্তানদের এই চরম অমানবিক আচরণ প্রকাশ পেয়েছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

গাছের তলায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে শামসুল হক বলেন, জীবনের সব উপার্জন দিয়ে কষ্ট করে সন্তানদের বড় করেছেন, অথচ জীবনের শেষপ্রান্তে এসে তাদের কাছেই তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ-উল-আরেফীন জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন।

সন্তানরা যদি বাবার নিয়মিত ভরণপোষণ ও সুরক্ষার দায়িত্ব না নেয়, তবে প্রচলিত পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত সন্তানদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।