মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬,

দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণ পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

জাতীয় ডেস্ক

নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম

দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণ পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, রংপুরসহ সমগ্র উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং বহুমুখী পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও বাস্তবায়নকারী সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বিশেষ বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামির বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত ব্রিফ করেন।

তিনি জানান, নীতিগত বৈঠকে কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয় যে বর্তমানে প্রস্তাবিত দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার (ফিজিবিলিটি স্টাডি) কাজ পুরোদমে চলমান রয়েছে।

আগামী বছরের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে এই সমীক্ষা সম্পন্ন হবে।

সমীক্ষা চূড়ান্ত হওয়ার পরই সেতু দুটির সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থান, অবকাঠামোগত নকশা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের মোট প্রাক্কলিত ব্যয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

উচ্চপর্যায়ের এ বৈঠকে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে আধুনিক ওয়াই-আকৃতির সংযোগ ব্যবস্থার সম্ভাব্য কৌশল ও এর উপযোগিতা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।

কর্মকর্তারা জানান, এই সেতু নির্মিত হলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বহুগুণ সহজ হবে। এর পাশাপাশি মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে।

একই সঙ্গে দ্বিতীয় যমুনা সেতুর মাধ্যমে শিল্প ও কৃষিনির্ভর উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক আর্থসামাজিক অগ্রযাত্রায় কার্যকর যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরির বিষয়টি বৈঠকে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে বহুল আলোচিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের নানামুখী সম্ভাবনার দিকগুলোও তুলে ধরা হয়।

বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে তীব্র পানি সংকট মোকাবিলা, সেচ সুবিধা নিশ্চিত করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সামগ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য সুরক্ষার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পায়। এ ছাড়া নির্মিতব্য ব্যারেজের ওপর দিয়ে সমন্বিত বিকল্প সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার বাস্তব সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় হয়।

সহকারী প্রেস সচিব আরও জানান, মেগা প্রকল্পগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ, প্রকল্প এলাকার জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্তদের সুষ্ঠু পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর পারস্পরিক সমন্বয় সুদৃঢ় করার ওপর জোর দেন সরকারপ্রধান।

গুরুত্বপূর্ণ এই নীতি নির্ধারণী বৈঠকে সরকারের মন্ত্রী ও সচিব পর্যায়ের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।

উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।

প্রশাসনিক ও কারিগরি কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ. কে. এম. শাহাবুদ্দিন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মহা. এনামূল হক।

এ ছাড়া বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক ও যুগ্মসচিব মো. ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন এবং পদ্মা ব্যারেজের প্রকল্প পরিচালক মাহমুদ হাসান বৈঠকে উপস্থিত থেকে কারিগরি দিকগুলো তুলে ধরেন।