মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬,

শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার রায় কার্যকরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি

জাতীয় ডেস্ক

নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম

শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার রায় কার্যকরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সমস্ত সম্পত্তি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর এই চিঠি পাঠানো হয়।

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পদ বাজেয়াপ্তের রায় কার্যকরে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন রায়ে অন্য যেসব আসামির সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ এসেছে, পর্যায়ক্রমে সেসব রায় বাস্তবায়নেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাগিদপত্র দেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে আসামির সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবার ও আহতদের মাঝে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিতরণের সুনির্দিষ্ট আদেশ দেওয়া হয়।

রায়ে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশনা বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।

প্রসিকিউশনের চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়, অনতিবিলম্বে দণ্ডিত ও পলাতক শেখ হাসিনার সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি সরকারের নিয়ন্ত্রণে না নিলে আসামি যেকোনো সময় তা ভোগ, বিক্রয় বা গোপনে অন্যভাবে হস্তান্তর করে আদালতের বাজেয়াপ্তকরণ আদেশ নিষ্ফল করে দিতে পারেন।

চিঠিতে আরও অনুরোধ জানানো হয়, দণ্ডিত পলাতক আসামি শেখ হাসিনার সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির একটি নির্ভুল পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে হবে। এরপর তা দ্রুত রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে এনে ট্রাইব্যুনালের আদেশানুযায়ী ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসনে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিলিবন্দোবস্তের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিচারিক নথি পর্যালোচনায় জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। ওই রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে এই মামলায় রাজসাক্ষী হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।

এদিকে একই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর পলাতক আসামিরা হলেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর দেওয়া ওই রায়ে ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধাংশ বাজেয়াপ্ত করার আদেশ হয়। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রির অর্থ জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিতরণের নির্দেশ রয়েছে।

এর বাইরে চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় অপর এক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ২৯ অক্টোবর রায় দেন আদালত।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই মামলায় কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এই রায়েও দণ্ডিত সব আসামির স্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করে সেই অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে শহীদ পরিবার ও আহতদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে হস্তান্তরের নির্দেশ বহাল রয়েছে।