মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬,
ট্রাইব্যুনালের রায় বাস্তবায়ন

শেখ হাসিনা ও কামালের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম

শেখ হাসিনা ও কামালের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর এই নির্দেশনামূলক চিঠিটি পাঠানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত এই দুই পলাতক আসামির যাবতীয় সম্পত্তি অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত করে জুলাই বিপ্লবে শহীদ পরিবার এবং আহত ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিতরণের সুনির্দিষ্ট আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের প্রদত্ত এই রায় ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ মাঠপর্যায়ে কার্যকর করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলা হয়, অনতিবিলম্বে দণ্ডিত ও পলাতক শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামালের স্থাবর-অস্থাবর যাবতীয় সম্পত্তি রাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া না হলে, আসামিপক্ষ যেকোনো মুহূর্তে তা গোপনে ভোগদখল, বিক্রয় বা অন্য কোনো আইনি ফাঁকফোকরে তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে পারে। ফলে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ঘোষিত বাজেয়াপ্তকরণ সংক্রান্ত মূল রায় ও আদেশ বাস্তবায়ন কার্যত নিষ্ফল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এমন বাস্তবতায় দণ্ডিত এই দুই পলাতক আসামির সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির একটি নির্ভুল পূর্ণাঙ্গ তালিকা দ্রুত তৈরি করার জন্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তালিকাভুক্ত সম্পত্তি সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রের হেফাজতে নিয়ে ট্রাইব্যুনালের রায় অনুযায়ী ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের মাঝে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বণ্টন ও বিলিবন্দোবস্তের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অবিলম্বে সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি নিশ্চিত করেন যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক চিঠি আগেই প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং তা পাঠানো হয়েছে।

আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী মূল রায় প্রকাশের পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আসামিপক্ষের জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করার বিধান রয়েছে। তবে নির্ধারিত সেই নির্দিষ্ট সময়সীমা ইতিমধ্যে অতিক্রান্ত হওয়ায় দণ্ডিত আসামিদের আর আপিল করার কোনো বৈধ সুযোগ অবশিষ্ট নেই।

এর ফলে তাদের সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রীয়ভাবে বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে কোনো আইনি জটিলতা বা বাধা নেই বলে জানান তিনি।