মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬,

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল কখন ও কীভাবে জানা যাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল কখন ও কীভাবে জানা যাবে

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল প্রকাশের প্রক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার শুরু হওয়া এই নির্বাচনের ফলাফলের দিকে রাত থেকেই সার্বক্ষণিক নজর রাখবেন মার্কিন ভোটাররা। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে দেশটির প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতে এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোটগ্রহণ চলছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির কাছ থেকে এই দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার লড়াইয়ে নেমেছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি।

ভোট গণনা কীভাবে সম্পন্ন হবে, কখন থেকে ফলাফল জানা যাবে এবং কোনো অঙ্গরাজ্যে জটিলতা তৈরি হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—সেসব বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

মঙ্গলবার দিনভর ভোটগ্রহণের পর কেন্দ্রগুলো বন্ধ হওয়ার পরপরই প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ শুরু হবে।

পূর্ব উপকূলের কিছু অঞ্চলে বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের বুথফেরত ও প্রাথমিক প্রবণতা আসতে থাকবে। তবে বেশ কিছু আসনের ফলাফল পেতে বুধবার বা তার চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সব অঞ্চলে একসঙ্গে ভোট শেষ না হওয়া এবং কর্মকর্তাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার কারণে এই বিলম্ব ঘটে।

প্রাথমিক ফল প্রকাশের অর্থ কোনো প্রার্থীর সরাসরি বিজয় নয়। নির্বাচন কর্মকর্তারা ব্যালট গণনা করে কেবল তথ্য সরবরাহ করেন, যা পরবর্তীতে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের মতো অভিজ্ঞ সংবাদমাধ্যম বিশ্লেষণ করে বিজয়ী ঘোষণা করে। কোনো আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলে বিজয়ী নির্ধারণে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। ফলে পুরো কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত কার দখলে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট হতে অপেক্ষা দীর্ঘ হতে পারে।

ভোটকেন্দ্র বন্ধের সময়সূচি অনুযায়ী প্রথম ভোটগ্রহণ শেষ হবে ইন্ডিয়ানা ও কেনটাকির কয়েকটি অংশে।

বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৫টায় ইন্ডিয়ানা ও কেনটাকির একাংশে ভোট শেষ হবে। এরপর সকাল ৬টায় ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, সাউথ ক্যারোলাইনা, ভারমন্ট ও ভার্জিনিয়ার বেশিরভাগ অঞ্চল এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারের অধিকাংশ এলাকায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। সকাল সাড়ে ৬টায় নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় কেন্দ্র বন্ধ হবে।

সকাল ৭টায় আলাবামা, কানেকটিকাট, ডেলাওয়্যার, ইলিনয়, মেইন, মেরিল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস, মিসিসিপি, মিসৌরি, নিউ জার্সি, ওকলাহোমা, পেনসিলভানিয়া, রোড আইল্যান্ড, টেনেসি ও ওয়াশিংটন ডিসির পাশাপাশি ফ্লোরিডা, কানসাস, মিশিগান, নর্থ ও সাউথ ডাকোটা এবং টেক্সাসের কিছু অংশে ভোট শেষ হবে।

সকাল সাড়ে ৭টায় আরকানসাসে ভোট শেষ হবে। সকাল ৮টায় অ্যারিজোনা, কলোরাডো, আইওয়া, লুইজিয়ানা, মিনেসোটা, নেব্রাস্কা, নিউ মেক্সিকো, নিউইয়র্ক, উইসকনসিন, ওয়াইওমিং এবং টেক্সাসসহ বাকি মধ্য-অঞ্চলের ভোটগ্রহণ বন্ধ হবে। সকাল ৯টায় মন্টানা, নেভাদা, ইউটা, আইডাহো ও ওরেগনের একাংশে এবং সকাল ১০টায় ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটনসহ বাকি অংশে ভোট শেষ হবে। বেলা ১১টায় হাওয়াই ও আলাস্কার মূল ভূখণ্ড এবং দুপুর ১২টায় আলেউশিয়ান দ্বীপপুঞ্জে ভোটগ্রহণ সমাপ্ত হবে।

কিছু অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হতে পারে।

আলাস্কায় মূলত পছন্দক্রম বা র‌্যাঙ্কড-চয়েস ভোটিং পদ্ধতি চালু রয়েছে। সেখানে প্রথম পছন্দে কোনো প্রার্থী অর্ধেকের বেশি ভোট না পেলে পরবর্তী ধাপে গণনা করতে হয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও সেখানে পরদিন সকাল পর্যন্ত মাত্র ৭৫ শতাংশ ভোট গণনা সম্ভব হয়েছিল। ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে মূলত ডাকযোগে ভোট নেওয়া হয়। নির্বাচনের কয়েক দিন পর পর্যন্ত পৌঁছানো বৈধ ব্যালট যাচাই করে গণনা করতে হয় বলে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে ফল পেতে কয়েক সপ্তাহও লেগে যেতে পারে।

অ্যারিজোনায় ডাকযোগে দেওয়া ব্যালটের স্বাক্ষর পরীক্ষার বিধান থাকায় বিলম্ব হতে পারে। নেভাদায় সব ভোটারের কাছে ডাকব্যালট পাঠানো হয় এবং নির্বাচনের চার দিন পর পর্যন্ত পৌঁছানো ব্যালটও গণনায় অন্তর্ভুক্ত হয়। স্বাক্ষর সংশোধনের জন্য ভোটাররা ছয় দিন সময় পান। এ ছাড়া মেইনেও দ্বিতীয় ধাপের গণনার জন্য ব্যালট সরাসরি রাজধানী অগাস্টায় পাঠাতে হয়। ওয়াশিংটনেও ডাকব্যালট দেরিতে পৌঁছানোর সুযোগ থাকায় তাৎক্ষণিক ফল প্রকাশ কঠিন।

বিপরীতভাবে কিছু রাজ্যে অত্যন্ত দ্রুত ফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফ্লোরিডায় ঐতিহ্যগতভাবেই দ্রুত ব্যালট গণনা করা হয়। ওহাইওতে আগাম ও অনুপস্থিত ভোটের সিংহভাগ শুরুতেই প্রকাশ করা হয়। নর্থ ক্যারোলাইনা ও পেনসিলভানিয়াতেও রাতের প্রথম ভাগেই ডাকব্যালটের বড় অংশ প্রকাশ করার রেওয়াজ রয়েছে। উইসকনসিনেও রাতের মধ্যেই সিংহভাগ ভোট গণনার রেকর্ড রয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ ফলাফল চূড়ান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে আলাস্কার সিনেট আসনে জটিলতা থাকলে ১৮ নভেম্বরের আগে দ্বিতীয় ধাপের গণনা সম্ভব নয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও প্রতিনিধি পরিষদের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হতে আট দিন সময় লেগেছিল।

ফলাফল নিয়ে কোনো প্রার্থী আপত্তি জানালে আইন অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয় বা আবেদনভিত্তিক পুনর্গণনা হতে পারে। প্রার্থীরা চাইলে আদালতেও যেতে পারেন।

ফল মেনে নেওয়ার প্রশ্নে ট্রাম্প ইতিপূর্বে জানিয়েছেন, নির্বাচন সৎভাবে হলেই কেবল তিনি ফলাফল মেনে নেবেন। তবে মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট একক সিদ্ধান্তে ফল বাতিল করতে পারেন না। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব নির্বাচন ব্যবস্থা রয়েছে এবং কংগ্রেসের উভয় কক্ষের সদস্যদের বিরোধ নিষ্পত্তির চূড়ান্ত এখতিয়ারও সংশ্লিষ্ট কক্ষের হাতেই ন্যস্ত থাকে।