নভেম্বর ৩, ২০২৬, ১০:৫১ এএম
ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণাঞ্চলীয় কেশম দ্বীপে সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে দক্ষিণ ইরানের হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন কেশম দ্বীপ ও বন্দর লেঙ্গেহ এলাকায় দফায় দফায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্যের ভিত্তিতে এই হামলার খবর সামনে এসেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্ফোরণের নির্দিষ্ট কারণ, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কিংবা হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি নাকচ করার চেষ্টা করছেন, তখনই এই অভিযানের খবর প্রকাশ্যে এলো।
সোমবার (২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, "ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয়েছিল। আমরা জিতেছি।" তিনি আরও যোগ করেন, "এটাকে আদৌ যুদ্ধ বলা যায় কি না, তা আমি জানি না। কারণ, কয়েক মাস ধরে আমরা কোনো লড়াই করছি না।"
তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় ছোট আকারের সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে যাতে ইরান হুমকি বা হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে, মূলত সেই প্রতিরোধমূলক উদ্দেশ্যেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
দক্ষিণাঞ্চলে বিস্ফোরণের বিষয়টি ইরানি গণমাধ্যমেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, কৌশলগত কেশম দ্বীপে পরপর পাঁচটি বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা গেছে। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহতে সমুদ্রের দিক থেকে বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ ভেসে আসে। দুটি সংবাদমাধ্যমই ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক উত্তেজনা থাকলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ এখনও চালু রয়েছে।
সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশের কূটনৈতিক বার্তা বিনিময় অব্যাহত রয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে কাতারের মধ্যস্থতায় এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি সম্প্রতি দোহা সফর করেছেন।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার পর তেহরানও ইসরায়েল ও আঞ্চলিক মার্কিন স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আঘাত হানে। পরবর্তীতে এপ্রিল মাসে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়।
পরে ১৮ জুন হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচলের নিরাপত্তা রক্ষায় ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতভেদের কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন