সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬,
জ্বালানি তেলের বাজার

তেলের দাম বিশ্ববাজারে কমেছে ৪ শতাংশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নভেম্বর ২, ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম

তেলের দাম বিশ্ববাজারে কমেছে ৪ শতাংশ

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) বিশ্ববাজারে তেলের দর প্রায় ৪ শতাংশ হ্রাস পায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক সমঝোতার জোর সম্ভাবনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহে অচলাবস্থা কাটতে পারে এমন ইতিবাচক প্রত্যাশার কারণে বাজারে তাৎক্ষণিক এই প্রভাব পড়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা যায়, সোমবার সকাল ৯টা নাগাদ বৈশ্বিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ ডলার ২০ সেন্ট বা ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১০৯ ডলার ২৩ সেন্টে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহযোগ্য ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ ডলার ৯৮ সেন্ট বা ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ১৪ সেন্টে।

যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত শান্তি আলোচনা বাজারকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।

কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে দোহার টেবিলে ইরানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের টানা তৃতীয় দিনের মতো আলোচনার খবর জ্বালানি বাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলে। রোববার আলোচনা শেষে ইরানি প্রতিনিধিদল ফিরে গেলেও কোনো মতবিরোধ বা জটিলতার কারণে তারা ফিরে যাননি বলে বৈঠক সম্পর্কে সরাসরি অবগত এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রোববার স্পষ্ট করেন, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কার্যকর পরামর্শ ও যোগাযোগ অব্যাহত রাখতেই এসব ধারাবাহিক আলোচনা চালানো হচ্ছে। তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, তেহরান একই সাথে কূটনীতি ও জাতীয় প্রতিরক্ষা এই উভয় পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্যই পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতির প্রত্যাশা এবং সপ্তাহান্তে নতুন করে বড় কোনো সামরিক হামলা বা উত্তেজনা না বাড়ায় অপরিশোধিত জ্বালানির দামে সাময়িক নিম্নমুখী ধারা তৈরি হয়েছে। তবে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহের সার্বিক নিশ্চয়তা এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে।

সংঘাত শুরুর পর থেকে বিশ্বজুড়ে তেলের জরুরি মজুত আশঙ্কাজনক হারে কমেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল প্রতিষ্ঠান আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত বৈশ্বিক মজুত থেকে প্রায় ১০০ কোটি ব্যারেল তেল ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছে বিভিন্ন দেশ।

এদিকে তেলের দরপতন দীর্ঘস্থায়ী না হয়ে ভবিষ্যতে পুনরায় ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শীর্ষ অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আন্তর্জাতিক সরবরাহ সংকটকে কেন্দ্র করে মার্কিন বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস রোববার তাদের অপরিশোধিত তেলের ভবিষ্যৎ মূল্য সংক্রান্ত পূর্বাভাস সংশোধন করে বাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল উত্তোলন যদি ২০২৫ সালের গড় পরিমাণের চেয়ে দৈনিক ৩৫ লাখ ব্যারেল কম থাকে, তবে আগামী ২০২৭ সালে ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১৪০ মার্কিন ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে।

বিনিয়োগ ব্যাংকটির মূল্যায়নে সতর্ক করা হয়েছে যে, বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে হামলা বৃদ্ধি, সংশ্লিষ্ট জ্বালানি অবকাঠামোর কাঠামোগত ক্ষতি এবং পরিবহন নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তাই আগামী দিনে জ্বালানি তেলের দাম পুনরায় আকাশচুম্বী হওয়ার প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে।