সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬,

কৌশলগত নেতৃত্ব তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

জাতীয় ডেস্ক

নভেম্বর ২, ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম

কৌশলগত নেতৃত্ব তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং উদীয়মান বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় কৌশলগত নেতৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদারের তাগিদ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (২ নভেম্বর) বঙ্গভবনে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২৬ এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০২৬-এর অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই আহ্বান জানান। 

রাষ্ট্রপতি স্পষ্ট করেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রে রূপান্তরে যোগ্য নেতৃত্বের বিকল্প নেই।

বক্তব্যের শুরুতে রাষ্ট্রপতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ঐতিহাসিক ভূমিকা ও স্বাধীনতার ঘোষণার কথা উল্লেখ করে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ১৯৭৭ সালে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পেশাদার সামরিক শিক্ষার প্রসারে জিয়াউর রহমানের অবদানের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। এ ছাড়া ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং গত ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আত্মত্যাগীদের স্মরণ করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

নিরাপত্তার আধুনিক ধারণা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি জানান, প্রচলিত সামরিক প্রস্তুতির বাইরেও এখন সাইবার ঝুঁকি, জলবায়ু পরিবর্তন, আন্তঃদেশীয় অপরাধ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো বিষয়গুলো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া সামগ্রিক জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা অসম্ভব। বঙ্গোপসাগর ও বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের কারণে নীতি-নির্ধারকদের আরও বেশি দূরদর্শী হওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

অপতথ্য ও সাইবার হুমকি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ভূমিকার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বেসামরিক প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর কর্মকর্তাদের মধ্যে কৌশলগত বোঝাপড়া তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। দায়িত্ব পালনে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিকে প্রাধান্য দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। সংঘাত এড়িয়ে পারস্পরিক সংলাপ ও শান্তির পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপ্রধান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান। এ সময় অনুষদ সদস্য, সেনা কর্মকর্তা ও বঙ্গভবনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স ২০২৬-এ বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ৫৪ জন, বিসিএস প্রশাসনের ১৮ জন এবং ১৭টি বন্ধুপ্রতিম দেশের ৩১ জনসহ মোট ১০৩ জন কর্মকর্তা অংশ নিয়েছেন।