সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬,
পোশাকশিল্পে অস্থিরতা

পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভে কিছু শিল্পমালিক সাবেক মন্ত্রীরাও জড়িত

জাতীয় ডেস্ক

নভেম্বর ২, ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম

পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভে কিছু শিল্পমালিক সাবেক মন্ত্রীরাও জড়িত

পোশাকশ্রমিকদের চলমান বিক্ষোভকে ঘিরে অস্থিরতা তৈরির পেছনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কিছু শিল্পমালিক এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীদের হাত রয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার সকালে সচিবালয়ে পোশাকশিল্পের শীর্ষ দুই সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কিছু শিল্পমালিক পরিকল্পিতভাবে এই অস্থিরতা উসকে দিচ্ছেন এবং এতে সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের জড়িত থাকার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।

উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কারখানা বন্ধ রাখার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে সরকার।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, যেসব মালিক ইচ্ছাকৃতভাবে কারখানা বন্ধ রেখে বিশৃঙ্খলা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন, তাদের চিহ্নিত করতে মালিক সংগঠনগুলোর কাছে বিস্তারিত তালিকা চাওয়া হয়েছে। একইভাবে বিক্ষোভের নামে সহিংসতা সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত তথাকথিত শ্রমিকনেতা ও নির্দিষ্ট সংগঠনগুলোর যাবতীয় তথ্যও চেয়েছে প্রশাসন। শিল্পাঞ্চলের সামগ্রিক পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক রাখতে ২৪ ঘণ্টা সার্বক্ষণিক নজরদারির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ বিভাগ এবং মালিক সমিতিগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সমন্বিত যোগাযোগ নেটওয়ার্ক কাজ করবে। এছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করে একটি বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিটি শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতির ওপর রিয়েল-টাইম নজর রাখা হবে।

কারখানা সচল রাখার বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রশাসন এক মুহূর্তের জন্যও কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার পক্ষে নয়। প্রকৃত পোশাকশ্রমিকরা এমন ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে কখনোই জড়িত হতে পারেন না উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন, নিরীহ শ্রমিকদের সামনে ঠেলে দিয়ে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তিনি দাবি করেন, স্বৈরাচারের দোসররা শ্রমিকদের ন্যায্য আবেগকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। মহাসড়ক অবরোধ এবং যানবাহনে অগ্নিসংযোগে ইন্ধনদাতাদের অনেককেই শনাক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং সহিংসতায় জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ, অডিও ক্লিপ ও সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে সংরক্ষিত রয়েছে।

শ্রমিকদের মজুরি কাঠামোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করে জানান, সরকার ইতোমধ্যেই ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। সোমবারই বোর্ডের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, অন্যথায় অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে আলোচনা সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়ের ভেতর ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হবে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, সরকার বেশ কয়েক সপ্তাহ আগেই মালিকপক্ষের প্রতিনিধির নাম নিয়ে প্রক্রিয়া শুরু করেছিল, তবে শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি মনোনয়নে বিলম্ব হওয়ায় গত পরশু রাতে তালিকা চূড়ান্ত হয় এবং অবিলম্বে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

চলমান সংকট নিরসনে সোমবার বেলা তিনটায় বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে সরকার। সেখানে শ্রমিক নেতাদের মতামত ও পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেন, পলাতক নেতারা চাইলে এখনই দেশে ফিরে আসতে পারেন, তার জন্য ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করার কোনো প্রয়োজন নেই। দেশে ফিরলে তাদের সরাসরি আইনের মুখোমুখি করে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

উচ্চপর্যায়ের এ সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।