নভেম্বর ২, ২০২৬, ১১:০৯ এএম
দেশের সড়কগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচল করা ব্যাটারিচালিত রিকশাকে এবার আনুষ্ঠানিক আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে। সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার এই ব্যাটারিচালিত যানবাহনের আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে যানগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার পর পর্যায়ক্রমে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক বিধিমালা প্রণয়ন করে সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হয়। গেজেটে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে নিবন্ধন ও নবায়ন মাশুল।
দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার রিকশার ক্ষেত্রে নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে আট হাজার টাকা এবং এক বছর পর থেকে প্রতিবারের বার্ষিক নবায়ন ফি ধরা হয়েছে চার হাজার টাকা। চার যাত্রী বহনকারী রিকশার নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার টাকা, যার বার্ষিক নবায়ন ফি হবে ৫০০ টাকা। অনুমোদিত প্রতিটি ই-রিকশা সর্বোচ্চ ১২ বছর চলাচলের অনুমতি পাবে। এর বাইরে কিউআর কোডযুক্ত ফিটনেস সনদের জন্য আলাদাভাবে এক হাজার টাকা দিতে হবে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদিত নকশা অনুসারেই সব ধরনের ই-রিকশা তৈরি করতে হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি স্পষ্ট করেছেন, রাস্তায় থাকা পুরনো যানগুলোকেও বুয়েটের নির্দেশিত নকশার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ করে রূপান্তর করতে হবে। যানবাহনের গুণগত মান নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে সরকার।
এদিকে রাজধানী ঢাকায় যান চলাচল সুশৃঙ্খল রাখতে পুরো মহানগরীকে আটটি অঞ্চলে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ—উভয় সিটি করপোরেশন এলাকায় চারটি করে মোট আটটি ভিন্ন রঙের অঞ্চল বা জোন থাকবে। নির্দিষ্ট অঞ্চলে নিবন্ধিত কোনো রিকশা অন্য অঞ্চলের নির্ধারিত সীমানায় প্রবেশ করতে পারবে না।
নতুন নীতিমালায় নিবন্ধনহীন চলাচল, নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি যাত্রী তোলা, মাত্রাতিরিক্ত গতি, অননুমোদিত ব্যাটারি বা চার্জিং ব্যবস্থা ব্যবহার এবং ট্রাফিক সংকেত অমান্য করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রশাসন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন