নভেম্বর ২, ২০২৬, ১০:১৮ এএম
যে কোনো মূল্যে পোশাক কারখানা চালু রাখা এবং সাধারণ মানুষের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পোশাক খাতের শ্রমিক বিক্ষোভ ও সহিংসতার মুখে শিল্পাঞ্চলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এক জরুরি বৈঠকে এই কড়া নির্দেশনা দেন তিনি। একই সঙ্গে আগামী ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে কোনো পক্ষ যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চালাতে না পারে, তা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলারও নির্দেশ দেওয়া হয়। গতকাল সন্ধ্যায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে ঘণ্টাব্যাপী এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে সরকারের এই অবস্থান স্পষ্ট করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর শ্রম উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
তৈরি পোশাক শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে গতকাল সকাল থেকেই ঢাকার মিরপুর, গাজীপুর, আশুলিয়া ও সাভারের রাজপথে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পূর্ব ঘোষণা মেনে গতকাল দুপুরের আগেই নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদাভাবে সাক্ষাৎ করেন। তাদের মধ্যে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের সার্বিক চিত্র নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
কিন্তু এর পরও রাজপথ শান্ত হয়নি।
বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভের পাশাপাশি শুরু হয় সংঘর্ষ ও কারখানা ভাঙচুর। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৫২৯টি কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন সংশ্লিষ্টরা। তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু সাফ জানিয়ে দেন, শিল্পে বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুর বন্ধ না হলে মালিকপক্ষ আর কারখানা সচল রাখতে পারবে না।
বৈঠক শেষে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, কলকারখানা ও উৎপাদন যাতে স্বাভাবিক থাকে এবং সাধারণ মানুষের জানমাল নিরাপদ থাকে, সেজন্য সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সরকারপ্রধান।
এদিকে চলমান এই শ্রমিক আন্দোলনের পেছনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিরীহ শ্রমিকদের সামনে রেখে দেশের তৈরি পোশাকের উৎপাদন ও রপ্তানি বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে মুখোশধারী ব্যক্তিরা প্রবেশ করে অস্থিরতা উস্কে দিচ্ছে এবং সীমান্তের ওপার থেকে এই অপতৎপরতায় ইন্ধন জোগানো হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেন, যারা সরাসরি সহিংস তাণ্ডব চালিয়েছে তাদের এরই মধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং পুলিশসহ সব নিরাপত্তা বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার মতে, কোনো প্রকৃত শ্রমিক কিংবা গ্রহণযোগ্য ট্রেড ইউনিয়ন এমন ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়। মজুরি বোর্ডের মাধ্যমেই নিয়মতান্ত্রিকভাবে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত হবে এবং প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
মালিকদের কারখানা না থামানোর আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেন, রপ্তানি বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যেতে হবে। যেসব কারখানা আতঙ্কে বন্ধ হয়েছে, তা নিতান্তই সাময়িক এবং দ্রুতই সব কারখানা খুলে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন