নভেম্বর ২, ২০২৬, ১০:২৮ এএম
টানা দুই দফা দরপতনের পর দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সংগঠনটির নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে সারাদেশে এই নতুন দর কার্যকর হয়েছে।
সকালে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দর কার্যকরের মাধ্যমে দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্য আবারও ঊর্ধ্বমুখী হলো।
নতুন মূল্যতালিকা দেওয়ার পাশাপাশি অলঙ্কার বিক্রি, পুরোনো স্বর্ণ বদল ও কেনার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা জারি করেছে বাজুস। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গহনার নকশা ও ধরন অনুযায়ী আলাদা মজুরি নির্ধারিত হবে। স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গেই সরকারি ভ্যাট যুক্ত থাকায় ক্রেতার কাছ থেকে আলাদা করে ভ্যাট আদায় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া পুরোনো অলঙ্কার বদল করার সময় মজুরি ও পাথরের দাম বাদ দিয়ে ১২ শতাংশ এবং পুরোনো স্বর্ণ ক্রয়ের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ মূল্য কর্তন করতে হবে। তবে কোনো অবস্থাতেই এক্সচেঞ্জ কিংবা পারচেজের সময় আলাদাভাবে ভ্যাট কাটা যাবে না।
পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্যতালিকা বহাল থাকবে।
এর আগে গত ৩১ অক্টোবর সকালে স্বর্ণের দাম শেষবার সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৯২ টাকা। ওই সমন্বয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৭ হাজার ৭৯৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮০০ টাকা।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ১৩১ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৩ দফায় দাম বেড়েছে, ৬৭ দফায় কমেছে এবং এক দফায় ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। অন্যদিকে, গত ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম পরিবর্তন হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার বৃদ্ধি ও ২৯ বার হ্রাস পায়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন