শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬,

বিশ্বব্যাংকের ঋণ পাচ্ছে বাংলাদেশ, ব্যাংকিং খাতে ৪৫ কোটি ডলার বরাদ্দ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম

বিশ্বব্যাংকের ঋণ পাচ্ছে বাংলাদেশ, ব্যাংকিং খাতে ৪৫ কোটি ডলার বরাদ্দ

ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠন এবং আর্থিক খাতের প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা বলয় জোরদার করতে বাংলাদেশকে সহজ শর্তে ৪৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার অর্থায়নে ‍‍`ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট-২‍‍` শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই অর্থায়ন অনুমোদন করা হয়েছে। প্রতি ডলার ১২৪ টাকা বিনিময় হার ধরে দেশীয় মুদ্রায় এই ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় পাঁচ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ জানিয়েছে, এই ঋণের বিষয়ে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকার এবং বিশ্বব্যাংকের মধ্যে আনুষ্ঠানিক অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষে বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জাঁ পেসমে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

শনিবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে প্রকল্পটি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঋণ সহায়তার মূল লক্ষ্য হলো দেশের সার্বিক আর্থিক ব্যবস্থার তদারকি সক্ষমতা বাড়ানো এবং সময়োপযোগী ব্যাংকিং সংস্কারে নীতিগত ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিশ্চিত করা।

প্রকল্পটির অধীনে তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এর মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তদারকি ব্যবস্থা সুদৃঢ় হবে। একই সাথে কেনাকাটা বা প্রকিউরমেন্ট সক্ষমতা উন্নয়ন এবং পারফরম্যান্সভিত্তিক শর্তাদির মাধ্যমে আর্থিক খাতের সার্বিক সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে।

ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স ব্যবস্থার আর্থিক সামর্থ্য বাড়ানো, আন্তঃব্যাংক লেনদেনের পেমেন্ট সময়কাল কমিয়ে আনা এবং সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের রেজল্যুশন ও পুনর্গঠন কার্যকর করা এই প্রকল্পের অন্যতম অগ্রাধিকার।

এর পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সার্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদার করার উদ্যোগ থাকবে। আমানত সুরক্ষা ট্রাস্ট তহবিলের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিও প্রকল্পটির প্রধান উদ্দেশ্যের তালিকায় রয়েছে।

ঋণের শর্তাবলী অনুযায়ী, উত্তোলিত অর্থের ওপর বাংলাদেশকে বার্ষিক ১ দশমিক ৫ শতাংশ হারে সুদ প্রদান করতে হবে। আর অনুত্তোলিত অংশের ওপর সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট ফি প্রযোজ্য হবে।

পাঁচ বছরের রেয়াতকাল বা গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ২৫ বছরের মধ্যে এই সম্পূর্ণ ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বহুপক্ষীয় উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামো, সামাজিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং জ্বালানি খাতের টেকসই রূপান্তরে অর্থায়ন অব্যাহত রেখেছে।