অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দুই হাত দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় রিমান্ডে নেওয়া আলোচিত সেই শিক্ষার্থী হাসনাতুল ইসলাম ফাইয়াজ এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনি বাংলা ছাড়া বাকি সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তার মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তাঁর বড় ভাই এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন যখন ছাত্র-জনতার উত্তাল অভ্যুত্থানে রূপ নেয়, তখন তাতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন ফাইয়াজ। সে সময় তিনি ছিলেন ১৭ বছর বয়সী ঢাকা কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
১৭ জুলাই থেকে ফাইয়াজ রাজপথের কর্মসূচিতে যোগ দিতে শুরু করেন।
প্রতিদিনের আন্দোলনে বন্ধুদের সঙ্গে সামনের সারিতে থেকে বিক্ষোভকারীদের পানি ও খাবার সরবরাহ করতেন তিনি। একই সাথে স্লোগানে স্লোগানে সহযোদ্ধাদের উজ্জীবিত রাখতেন। আন্দোলনের তীব্রতার মুখে ২৪ জুলাই রাতে রাজধানীর মাতুয়াইলের নিজ বাসা থেকে সাদা পোশাকের একদল ব্যক্তি তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। এর পর কয়েক দিন তাঁর পরিবারের সদস্যরা কোনো খোঁজ পাননি।
পরবর্তীতে ২৭ জুলাই পুলিশ সদস্য গিয়াস উদ্দিন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ফাইয়াজকে আদালতে তোলে পুলিশ।
সেদিন ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত তাঁকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালত কক্ষ থেকে বের করে আনার সময় দুই হাত দড়ি দিয়ে শক্ত করে বাঁধা অবস্থায় ফাইয়াজকে প্রিজনভ্যানে তোলার ছবি গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মাত্র ১৭ বছর বয়সী এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কলেজ শিক্ষার্থীর ওপর এ ধরনের অমানবিক আচরণ সে সময় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার জন্ম দেয়। এমনকি ঘটনাটি গড়ায় উচ্চ আদালত পর্যন্ত।
পরদিন ২৮ জুলাই ফাইয়াজের আইনজীবীরা আদালতে তাঁর জন্মনিবন্ধন ও এসএসসি পরীক্ষার মূল সনদ উপস্থাপন করে প্রমাণ করেন যে তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক।
নথিপত্র পর্যালোচনার পর ঢাকার শিশু আদালত ফাইয়াজকে অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে পুলিশের চাওয়া সাত দিনের রিমান্ড আদেশ পুরোপুরি বাতিল করেন। একই সাথে তাঁকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে ২৯ জুলাই হাইকোর্টে শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে যে, অপ্রাপ্তবয়স্ক ফাইয়াজকে রিমান্ডে নেওয়া এবং দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখার ঘটনাটি আইনগতভাবে মারাত্মক ভুল ছিল।
গ্রেপ্তার, নিপীড়ন ও কারাবাসের সেই ভয়াল স্মৃতি পেছনে ফেলে মুক্ত হয়ে আবার নিজের পড়াশোনায় গভীর মনোযোগ দেন ফাইয়াজ। কঠিন মানসিক আঘাত ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গিয়েও উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফলে মেধার অনন্য স্বাক্ষর রাখলেন তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন