শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬,

আশুলিয়ায় ১১ কারখানায় ছুটি ঘোষণা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম

আশুলিয়ায় ১১ কারখানায় ছুটি ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

আশুলিয়ায় পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও কর্মবিরতির কারণে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে শিল্পাঞ্চল। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং শ্রমিকদের তালিকাভুক্তি বাতিলের দাবিতে শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল থেকে এ অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঠগড়া ও আশপাশের অন্তত ১১টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

বিক্ষোভ চলাকালে শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে শিল্প পুলিশের এক সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বেলা ১১টার দিকে ১১টি কারখানায় ছুটি ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দায়িত্ব পালনকালে ইটপাটকেলের আঘাতে ওই পুলিশ সদস্য মাথায় আঘাত পান। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালে কাঠগড়া এলাকার নাঈম নীটওয়্যার কারখানার শ্রমিকেরা প্রথমে কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি শুরু করেন।

কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা কারখানা চত্বর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং সড়কে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। এ সময় আশপাশের কয়েকটি পোশাক কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। শিল্প পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে বিক্ষোভকারীদের সাথে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সৃষ্টি হয় এবং এতে ওই পুলিশ সদস্য আহত হন।

শ্রমিক অসন্তোষ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে কাঠগড়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নাঈম নীটওয়্যারসহ অন্তত ১১টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রেখে দিনের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে আশপাশের দুই-একটি কারখানায় কর্তৃপক্ষ সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা করেন।

কাঠগড়া আমতলা এলাকার একটি পোশাক কারখানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাদের কারখানাসহ আশপাশের দুই-তিনটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অধিকাংশ কারখানাই নিরাপত্তার স্বার্থে ছুটি দিতে বাধ্য হয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী কর্মদিবসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ থেকে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। সেদিন অনন্ত গার্মেন্টস লিমিটেডের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভকারীরা ইটপাটকেল ছোড়ে এবং ভাঙচুরের পর আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে শিল্প পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ওইদিন সকালে নিশ্চিতপুর এলাকার নিউজ গার্মেন্টসের শ্রমিকেরা প্রথম কর্মবিরতি ডাকেন, যার সাথে পরবর্তীতে নিট এশিয়া ও নিউ এজ গার্মেন্টসের শ্রমিকেরা যুক্ত হন এবং কারখানা ছুটির পর তারা দলবদ্ধ হয়ে অনন্ত গার্মেন্টসের সামনের বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন।