শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬,
ধানখেতে আত্মগোপন

গ্রেপ্তার এড়াতে ধানখেতে আত্মগোপন, তবুও রক্ষা পেলেন না আ.লীগ নেতা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ১১:৪৯ পিএম

গ্রেপ্তার এড়াতে ধানখেতে আত্মগোপন, তবুও রক্ষা পেলেন না আ.লীগ নেতা

ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের নজর এড়াতে রাতের আঁধারে ধানখেতে আত্মগোপন করেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা পেলেন না গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার এক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে ধানখেতে আশ্রয় নেওয়া ওই নেতার নাম হাজী মজনু সরকার (৪৬)। তিনি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শাখাহার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ধানখেতে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোত্তালিব সরকার।

এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এবং জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গ্রেপ্তার মজনু সরকার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শাখাহার ইউনিয়নের আলী গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত নাসির সরকারের ছেলে।

রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবে স্থানীয় এলাকায় পরিচিত ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্ভাব্য গ্রেপ্তার অভিযান আঁচ করতে পেরে সীমান্তবর্তী একটি প্রত্যন্ত ধানখেতে আশ্রয় নিয়ে লুকিয়ে ছিলেন মজনু সরকার।

পরবর্তীতে গোয়েন্দা তথ্যের সুনির্দিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল ওই এলাকায় ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে ধানখেতের ভেতর থেকে তাঁকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মোত্তালিব সরকার জানান, সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ধানখেতে লুকিয়ে থাকা অবস্থাতেই মজনু সরকারকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

আটকের পর তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে জেলা ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

কর্মকর্তারা জানান, শুক্রবার দুপুরের মধ্যেই প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাঁকে গোবিন্দগঞ্জ থানা-পুলিশের হেফাজতে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।

তাঁর বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে, তবে ঠিক কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বা কোন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।