অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম
ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এখন ভারতের সঙ্গে গোপন রাজনৈতিক আঁতাত বা লিয়াজোঁ শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন জেলা প্রশাসক কার্যালয় কোর্ট জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে স্থানীয় সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল বিনিময়কালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, অতীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যেভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার জন্য প্রতিবেশী দেশ ভারতকে তোষণ করত, বর্তমানে জামায়াতও ঠিক একই কৌশলে ক্ষমতায় যাওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সেই উদ্দেশ্যের অংশ হিসেবেই দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপনে ধারাবাহিক বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন।
রাশেদ খাঁনের দাবি, জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের এই ধরনের দ্বিমুখী ভূমিকা দেশের সাধারণ জনগণ কোনোভাবেই ভালোভাবে গ্রহণ করেনি।
তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামী যদি দাবি করে যে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সাথে এ ধরনের কোনো গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি, তবে দলটির নেতারা যেন প্রকাশ্যে তাঁর এই রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন।
বিরোধী দলের পূর্বঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু হয়ে এই লংমার্চ গোপালগঞ্জ হয়ে খুলনায় প্রবেশ করার কথা রয়েছে। পরবর্তীতে যশোর ও ঝিনাইদহ জেলা অতিক্রম করে কুষ্টিয়ায় গিয়ে এই কর্মসূচি সমাপ্ত হবে।
তবে জামায়াতের নেতাকর্মীরা আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে আগেই জানিয়েছে যে তারা লংমার্চ চলাকালে গোপালগঞ্জে কোনো পথসভা করবে না।
আওয়ামী লীগের ভয়ে একটি নির্দিষ্ট জেলায় পথসভা এড়িয়ে যাওয়ার এমন কৌশল কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য বা সাহসী রাজনীতি হতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি দলটির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর উচিত গোপালগঞ্জে গিয়ে প্রকাশ্য পথসভা করে নিজেদের রাজনৈতিক সাহস ও নৈতিকতার পরীক্ষা দেওয়া।
জামায়াত নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, দলটির নেতারা প্রকাশ্য জনসভায় সারাদিন ভারতবিরোধী জ্বালাময়ী বক্তব্য দেন, অথচ রাতের অন্ধকারে তাদেরই গোয়েন্দাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।
এমন দ্বৈত চরিত্রকে কোনোভাবেই প্রকৃত আধিপত্যবিরোধী রাজনীতি হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, ওই নির্বাচনের সুস্পষ্ট ফলের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে যে সাধারণ মানুষ এখন তথাকথিত জান্নাতের টিকিটের ধর্মীয় ফাঁদ ও বিভ্রান্তি সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের সচেতন ভোটাররা নির্বাচনের মাধ্যমেই দলটির এই রাজনৈতিক অপকৌশলকে চূড়ান্তভাবে লাল কার্ড দেখিয়েছেন।
এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন