শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬,
প্রবাসী হত্যায় বিক্ষোভ

প্রবাসী রোকন হত্যায় আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ভৈরবে মহাসড়ক অবরোধ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম

প্রবাসী রোকন হত্যায় আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ভৈরবে মহাসড়ক অবরোধ

ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রবাসী রোকন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত উপজেলার কালিকাপ্রসাদ এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। ঘণ্টাব্যাপী টানা অবরোধ চলাকালে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সড়কের উভয় পাশে বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং তীব্র যানজটে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও চালকেরা।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা সড়কের ওপর নেমে ফুটবল খেলে অভিনব কায়দায় প্রতিবাদ জানান।

অবরোধের সময় আন্দোলনরত স্থানীয় জনতা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কালক্ষেপণের অভিযোগ এনে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। তাঁরা রোকন হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির জোর দাবি জানান।

বিক্ষোভকারীরা জানান, গত ১ অক্টোবর রোকন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভৈরব থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় এক মাস অতিবাহিত হতে চললেও স্থানীয় থানা পুলিশ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কোনো রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি এবং চিহ্নিত আসামিদেরও গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার এলাকাবাসী একই দাবিতে মানববন্ধন করতে চাইলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়।

সে সময় বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্মসূচি স্থগিত রাখার আহ্বান জানান এবং এক সপ্তাহের মধ্যে হত্যার মূল রহস্য উদঘাটনসহ আসামিদের গ্রেপ্তারের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন। তবে নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না দেখে বাধ্য হয়ে তাঁরা পুনরায় রাজপথে নেমেছেন।

স্থানীয় পুলিশের তদন্তে কোনো কার্যকর অগ্রগতি না থাকায় পরবর্তীতে গত ২৪ অক্টোবর মামলাটির তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অনড় ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

কর্মসূচি চলার প্রায় এক ঘণ্টা পর ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নিয়ে সরাসরি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

তিনি আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে জানান, থানা পুলিশ এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশসহ প্রশাসনের একাধিক বিশেষায়িত ইউনিট মামলাটির তদন্তে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। আসামিদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে তিনি পুলিশকে কিছুটা সময় দেওয়ার জন্য আন্দোলনকারীদের প্রতি আহ্বান জানান।

পরবর্তীতে প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা সড়কের অবস্থান প্রত্যাহার করে নিলে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন নিহত প্রবাসীর পিতা ছাত্তার মিয়া, কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি লোকমান হোসেন, ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক নয়ন মিয়া, জেলা ছাত্রদল নেতা রবিন মিয়া এবং মাওলানা আজিজ মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।