শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬,
অনলাইন নিরাপত্তা আইন

যুক্তরাজ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে আইনি লড়াইয়ে হারল মেটা টিকটক ও এক্স

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম

যুক্তরাজ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে আইনি লড়াইয়ে হারল মেটা টিকটক ও এক্স

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের অনলাইন সেফটি অ্যাক্টের আওতায় তথ্য তলবের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকমের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে পরাজিত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটা, টিকটক ও এক্স। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) লন্ডনের হাইকোর্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তিনটির দায়ের করা পৃথক আইনি চ্যালেঞ্জ সরাসরি খারিজ করে দেন।

যুক্তরাজ্যের নতুন অনলাইন নিরাপত্তা আইন কার্যকরের ক্ষেত্রে এই বিচারিক সিদ্ধান্তকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্য অন্যতম যুগান্তকারী ও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৩ সালে প্রণীত কঠোর অনলাইন সেফটি অ্যাক্টের বিভিন্ন বিধানকে চ্যালেঞ্জ করে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এই মামলার আশ্রয় নিয়েছিল।

আইনটিতে মেটার মালিকানাধীন ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের পাশাপাশি টিকটক এবং এক্সের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য অত্যন্ত কঠোর নিয়মকানুন নির্ধারণ করা হয়।

বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের ক্ষতিকর এবং অবৈধ কনটেন্ট থেকে সুরক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অফকমের জন্য হাইকোর্টের এই রায় বড় জয় হলেও প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নিয়ন্ত্রকের অন্যান্য আইনি বিরোধের নিষ্পত্তি এখনো ঝুলে রয়েছে।

ফি আদায় ও সম্ভাব্য জরিমানার হিসাব পদ্ধতি নিয়ে মেটার করা পৃথক মামলার রায় এখনো আদালতের বিবেচনাধীন।

এছাড়া জনপ্রিয় বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপকে অনলাইন সেফটি অ্যাক্টের কোন শ্রেণিতে ফেলা হবে, তা নিয়েও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে আইনি বিরোধে জড়িয়েছে মেটা। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকেই এই আইনের অধীনে অফকমের প্রথম আনুষ্ঠানিক তদন্তের মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি।

আদালতের রায়ের বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে মেটা ও এক্স কোনো মন্তব্য করেনি। তবে টিকটক জানিয়েছে, তারা আদালতের লিখিত রায় পর্যবেক্ষণ করছে।

আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার হাতে ব্যাপক ক্ষমতা রাখা হয়েছে, যেখানে গুরুতর অপরাধে কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মোট বৈশ্বিক আয়ের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করার সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।

এর অংশ হিসেবে গত ফেব্রুয়ারিতে মেটা, টিকটক ও এক্সকে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের যাবতীয় পরিসংখ্যান চেয়ে আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠায় অফকম।

এতে জানতে চাওয়া হয়েছিল ঠিক কতগুলো আপত্তিকর পোস্ট অপসারণ করা হয়েছে বা দৃশ্যমানতা কমানো হয়েছে এবং কতসংখ্যক ব্যবহারকারী ক্ষতিকর কনটেন্টের সংস্পর্শে এসেছেন।

প্রতিষ্ঠান তিনটির দাবি ছিল, নিয়ন্ত্রকের এমন নোটিশ পরিচালন ব্যয়ে নজিরবিহীন চাপ তৈরি করছে। এক্সের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, এমন তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই তাদের কয়েক মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হয়ে যেতে পারে।

তবে লন্ডনের হাইকোর্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো যুক্তি গ্রহণ না করে তথ্য চাওয়ার নির্দেশনাকে আইনসম্মত বলে রায় দেন।

রায়ের পরপরই অফকমের একজন মুখপাত্র জানান, ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্মগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা তাঁদের নিয়ন্ত্রক কার্যক্রম পরিচালনার মৌলিক সক্ষমতার অংশ।