শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

এআই নিয়ে বিল গেটসের সতর্কবার্তা

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ১০:৪০ এএম

এআই নিয়ে বিল গেটসের সতর্কবার্তা

ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ আগামী দুই দশকে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সমাজে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তিনি মনে করেন, প্রযুক্তিটির অভাবনীয় অগ্রগতির কারণে চাকরির বাজারে নজিরবিহীন পরিবর্তন আসবে এবং মানুষের সার্বিক জীবনযাত্রাও বদলে যাবে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ‘ডিকোডার’ পডকাস্টের এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ৭০ বছর বয়সী এই প্রযুক্তি উদ্যোক্তা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের ফলে কেউ বিপুল লাভবান হবেন, আবার কেউ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সমাজের এই কঠিন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা সামলাতে হতে পারে।

বিল গেটসের ধারণা অনুযায়ী, এই রূপান্তরকাল প্রায় ২০ বছর স্থায়ী হতে পারে।

তবে তিনি পরিষ্কার করেছেন যে এটি কোনো অপরিবর্তনীয় বা নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়। প্রযুক্তির সামগ্রিক অগ্রগতি এবং এর বিকাশের গতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মানবজাতি কী ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপর ভিত্তি করে এই সময়কাল কম বা বেশি হতে পারে।

ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রের চিত্র তুলে ধরে গেটস জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মানুষের মতো দেখতে রোবটের প্রযুক্তিগত উন্নতির ফলে আগামী দিনে যন্ত্রই বাড়ি নির্মাণ, খাদ্য উৎপাদন এমনকি জটিল অস্ত্রোপচারের মতো স্পর্শকাতর কাজগুলো সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে। এর মাধ্যমে গোটা বিশ্বে পণ্য ও প্রয়োজনীয় সেবার ঘাটতি অনেকটাই কমে আসতে পারে। তবে শিশুর যত্ন, রন্ধনশিল্প, সৃজনশীল শিল্পকলা কিংবা খেলাধুলার মতো বিশেষ মানবিক ক্ষেত্রগুলো হয়তো মানুষ নিজেরাই পরিচালনা করতে চাইবে।

স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষিখাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপক সুফলের সম্ভাবনার কথা স্বীকার করলেও গেটস উল্লেখ করেন, প্রযুক্তির এই দানবীয় বিকাশ কার্যকরভাবে মোকাবিলার জন্য সরকার কিংবা সমাজব্যবস্থা এখনো পর্যাপ্ত প্রস্তুত নয়।

তিনি সতর্ক করে বলেন, সম্ভাব্য সাইবার হামলা ও জীববৈজ্ঞানিক হুমকি রুখতে রাষ্ট্রীয় নজরদারি এবং প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের একক দায়িত্ব কেবল প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়া চরম ভুল হবে।

বিল গেটস মন্তব্য করেন, সবচেয়ে অনুকূল ও ইতিবাচক পরিস্থিতিতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ মানব ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ পরিবর্তন ও বিশৃঙ্খল সময় তৈরি করবে। তবে এই প্রযুক্তিকে কীভাবে মানবকল্যাণে চালিত করা হবে, সে বিষয়ে এখনো মানুষের হাতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ সুযোগ রয়েছে।