অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ১১:৪১ এএম
ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের ডাকা আধাবেলা কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে সর্বাত্মক অবরোধ চলছে। শনিবার ভোর থেকে এই আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে ব্যারিকেড তৈরি করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এর ফলে পাহাড়ি এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে সড়কের দুই পাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাটও বন্ধ রয়েছে।
তবে এই কর্মসূচির কোনো প্রত্যক্ষ প্রভাব রাঙামাটি জেলা সদরে পড়েনি।
শহরের ভেতরে অভ্যন্তরীণ যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে। পাশাপাশি রাঙামাটি থেকে চট্টগ্রাম রুটে দূরপাল্লার যানবাহন নিয়মিত চলাচল করছে এবং নৌপথেও নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশে যথাসময়ে লঞ্চ ছেড়ে গেছে।
অন্যদিকে দীঘিনালা-সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ এখনও বলবৎ রয়েছে। সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতি বেশ থমথমে। উজোবাজার এলাকায় টানা অচলাবস্থার কারণে আজও কোনো দোকানপাট খোলেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে সড়কজুড়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে পুলিশ ও সেনাবাহিনী।
সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের চলাচলের ওপর জেলা প্রশাসনের জারি করা আনুষ্ঠানিক বিধিনিষেধ এখনও বহাল রাখা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন যে, অবরোধকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত জেলায় কোনো অপ্রীতিকর বা সংঘাতপূর্ণ ঘটনার তথ্য মেলেনি। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পর্শকাতর পয়েন্টগুলোতে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাজেকে জেএসএসের সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের অবিলম্বে প্রত্যাহার ও সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে সম্প্রতি আয়োজিত শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছিল। সেই ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতেই এই আধাবেলা অবরোধের ডাক দেয় ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন