অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
গাজীপুরের টঙ্গীতে এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলে মাদ্রাসাশিক্ষককে মারধর, প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও টাকা লুটের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের হয়েছে। অভিভাবক শাহজালাল রুমি এবং তার সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও নগদ ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগে মামলা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। এর আগে ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছিলেন শিশুটির বাবা।
শুক্রবার বিকেলে ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
একই দিন মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের প্রতিবাদ জানিয়ে টঙ্গীর সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি রোডে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ভবনের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম শ্রেণির সাত বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসার খণ্ডকালীন শিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেছিলেন শিশুটির বাবা।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, ওই মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক মোসলেম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের করা মামলার এজাহার ও প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন শাহজালাল রুমি ১০ থেকে ১৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠানে অনধিকার প্রবেশ করেন। এ সময় অধ্যক্ষের কক্ষের কাচ ও বৈদ্যুতিক বোর্ড ভাঙচুর করা হয়।
এজাহারে দাবি করা হয়, শিশুটিকে হেনস্তার অভিযোগ তুলে খণ্ডকালীন শিক্ষক মোসলেম উদ্দিনের মাথায় ভারী স্টেপলার দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তিনি রক্তাক্ত জখম হন এবং তার পোশাক ছিঁড়ে মারধর করা হয়। সেই সময় বাধা দিতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা, উপাধ্যক্ষ এবং নিরাপত্তাপ্রহরী দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারীকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়া অধ্যক্ষের কক্ষে ড্রয়ারে জমি কেনার উদ্দেশ্যে রাখা নগদ ১৭ লাখ টাকা লুট করার অভিযোগ তুলেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। অধ্যক্ষ দাবি করেছেন, পুরো ঘটনার দৃশ্য মাদ্রাসার সিসি ক্যামেরায় সংরক্ষিত রয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমেই এসব অভিযোগের সত্যতা নিরূপণ করা হবে।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মাওলানা ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী জানান, শিক্ষক মোসলেম উদ্দিন একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতক শেষ বর্ষে অধ্যয়নরত এবং তিনি দৈনিক মাত্র তিন ঘণ্টা খণ্ডকালীন ক্লাস নিতেন।
অধ্যক্ষের দাবি, নিয়মিত উপাধ্যক্ষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ছুটিতে থাকার সুযোগ নিয়ে মোসলেম উদ্দিনকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে উপাধ্যক্ষ বানিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বহিরাগতদের নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা এবং জমি কেনার ১৭ লাখ টাকা লুটের প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, শিশুর প্রতি যৌন নিপীড়নের অভিযোগটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করতে হবে। তবে নিছক অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, শিক্ষককে রক্তাক্ত করা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাণ্ডব চালানো কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তারা দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
শাহজালাল রুমিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বিতর্ক চলছে। স্থানীয় একটি পক্ষের দাবি, তিনি বহিরাগতদের এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছেন, যদিও এ অভিযোগের আনুষ্ঠানিক সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইতিপূর্বে ‘শানে সাহাবা খতিব ফাউন্ডেশন’সহ একাধিক ধর্মীয় সংগঠনও এ ধরনের মব সংস্কৃতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছিল।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন