অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ১১:২৫ এএম
গাজীপুরের টঙ্গীর একটি মাদরাসায় শিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তারের কোনো সিদ্ধান্ত পুলিশ গ্রহণ করেনি এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযানও চালানো হয়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই বিষয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের দাবিটি বিভ্রান্তিকর।
রাশেদ খাঁন ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, তিনি এ বিষয়ে সরাসরি গাজীপুরের পুলিশ কমিশনারের সাথে কথা বলেছেন।
টঙ্গীর স্থানীয় ওই মাদরাসার ঘটনায় শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তার করার কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত পুলিশ প্রশাসন নেয়নি এবং তাকে আটকের জন্য কোনো পুলিশি অভিযানও পরিচালনা করা হয়নি।
তিনি আরও জানান, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও তাঁকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশকে কোনো নির্দেশনা বা পরামর্শ দেওয়া হয়নি। কিছু গণমাধ্যমে শাহজালাল রুমির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযান সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারিত হওয়ায় জনমনে ভুল বার্তা তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বুধবার (২১ অক্টোবর)। ওই দিন টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ক্বারিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, মাদরাসার শিক্ষক মোসলেম আহম্মদ শিশুটির সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছেন। দায়ের করা মামলার এজাহার বিবরণী অনুযায়ী, সম্প্রতি মাদরাসার নিচতলার সিঁড়িতে ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে বলে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনাটি জানার পর শিশুটির পরিবারের সদস্যরা মাদরাসায় উপস্থিত হয়ে শিক্ষককে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি অভিযুক্ত শিক্ষককে চড় মারেন। পরবর্তীতে সেখানে উপস্থিত স্থানীয় জনতাও ওই শিক্ষকের ওপর চড়াও হয়ে মারধর করে। বিশৃঙ্খলার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় টঙ্গী থানা পুলিশ। পুলিশ কর্মকর্তারা আহত শিক্ষককে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেন এবং পরবর্তীতে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখান।
এই অপ্রীতিকর ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় সংশ্লিষ্ট থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অপরদিকে মাদরাসায় প্রবেশ করে শিক্ষককে মারধর, অবকাঠামো ভাঙচুর এবং অর্থ লুটের অভিযোগ তুলে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও থানায় একটি পাল্টা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন