অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে বহুদিন ধরেই একজন নির্ভরযোগ্য ও জাত সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ডের তীব্র সংকট চলছে। আক্রমণভাগের এই দীর্ঘস্থায়ী শূন্যতা মেটাতে এবার ইংলিশ নন-লিগ ফুটবলে দৃষ্টি দিয়েছেন জাতীয় দলের প্রধান কোচ থমাস ডুলি। সেখানে নিজের নৈপুণ্য দেখিয়ে নজর কেড়েছেন ১৮ বছর বয়সী তরুণ মোহাম্মদ মাহি খান। আগামী মাসে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য ঘোষিত বাংলাদেশের ২৮ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াডে এই প্রবাসী ফরোয়ার্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া মাহি খান বর্তমানে খেলছেন দেশটির ফুটবলের নবম স্তরের প্রতিযোগিতা ইউনাইটেড কাউন্টিজ লিগ প্রিমিয়ার ডিভিশন সাউথের ক্লাব মলটন এফসিতে।
চলতি ফুটবল মৌসুমে ক্লাবটির হয়ে চোখধাঁধানো ফর্মে রয়েছেন এই তরুণ। মলটন এফসির জার্সিতে মাঠে নেমে মাত্র সাতটি ম্যাচেই তিনি প্রতিপক্ষের জালে জড়িয়েছেন নয়টি গোল। এক দশমিক আট তিন মিটার বা ছয় ফুট উচ্চতার ডান পায়ের এই ফুটবলার মূলত আক্রমণভাগের কেন্দ্রবিন্দুতে অর্থাৎ মূল স্ট্রাইকার হিসেবে খেলেন। তবে দলের কৌশলগত প্রয়োজনে মাঠের দুই প্রান্ত বা উইংয়েও সমান দক্ষতায় দায়িত্ব পালন করার সহজাত সক্ষমতা রয়েছে তাঁর।
মলটন এফসিতে যোগ দেওয়ার আগে কেটারিং টাউনের যুব প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় সাত বছর ধরে ফুটবলের পাঠ নিয়েছেন মাহি।
পরবর্তীতে রাশডেন অ্যান্ড হাইহাম ইউনাইটেডে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। ধারাবাহিক অগ্রগতির পর চলতি ২০২৬ সালের জুলাই মাসে মলটনের মূল সিনিয়র দলের সঙ্গে স্থায়ী চুক্তিতে যুক্ত হন এই তরুণ তুর্কি।
লাল-সবুজের জার্সিতে অবশ্য মাহির এবারই প্রথম অভিষেক হচ্ছে না। এর আগে বয়সভিত্তিক ফুটবলে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নামার অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর। গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের আসরে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ওই প্রতিযোগিতায় শক্তিশালী উজবেকিস্তান, সিরিয়া এবং প্রতিবেশী ভারতের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচেই দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি।
তবে অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে মাঠে নামলেও আন্তর্জাতিক সেই তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠাতে পারেননি মাহি। ফলে বয়সভিত্তিক পার করে জাতীয় দলের মূল একাদশে জায়গা পোক্ত করতে এবং দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে প্রভাব বিস্তার করতে হলে তাঁকে আরও কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।
ইংলিশ ফুটবলের নবম স্তরে মাহির সাম্প্রতিক গোলবন্যা তাঁকে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বেশ কৌতূহলোদ্দীপক এক প্রতিশ্রুতিশীল নাম হিসেবে সামনে এনেছে। কিন্তু নবম স্তরের আঞ্চলিক লিগের খেলার গতির সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলের শারীরিক ও মানসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিস্তর ব্যবধান রয়েছে। সেই কঠিন বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনের দ্রুতগতির ফুটবলে তিনি কতটা মানিয়ে নিতে পারবেন, সেই উত্তর মাঠের লড়াইয়েই পাওয়া যাবে।
ঘরোয়া ক্লাব ফুটবলে বিদেশি স্ট্রাইকারদের ওপর ক্লাবগুলোর অন্ধ নির্ভরতার কারণে স্থানীয় আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা ম্যাচ খেলার পর্যাপ্ত সুযোগ পান না। এই বাস্তবতায় জাতীয় দলের আক্রমণে সবসময়ই দক্ষ স্কোরারের হাহাকার লেগেই থাকে। এই অচলাবস্থা কাটাতে সরাসরি মাঠে অনুশীলন পর্যবেক্ষণ না করেই নবম স্তরের তরুণ মাহিকে জাতীয় প্রাথমিক দলে টেনে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে কোচ থমাস ডুলি মূলত একটি সাহসী ‘ভাগ্য পরীক্ষা’ বা ঝুঁকি হিসেবেই দেখছেন। তবুও চরম সংকটের দিনে দলের গোলক্ষুধা মেটাতে এই তরুণের ওপরই ভরসা রাখতে চাইছে জাতীয় ফুটবল দলের টিম ম্যানেজমেন্ট।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন