রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬,

ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন আজ

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ১১:১৭ এএম

ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন আজ

পেশাগতভাবে আইনজীবী ও বর্তমানে জাতিসংঘের আইন কর্মকর্তা ব্যারিস্টার জাইমা জারনাজ রহমানের জন্মদিন আজ। ১৯৯৫ সালের এই দিনে (২৫ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকার ঐতিহ্যবাহী হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর জন্ম হয়। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র কন্যা তিনি। একটি প্রভাবশালী ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি হওয়া সত্ত্বেও মেধা, যোগ্যতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতার ওপর ভর করে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।

জন্মদিনে শুভাকাঙ্ক্ষীরা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন যে মেধা, আত্মপ্রত্যয় ও মানবিক মূল্যবোধকে পাথেয় করে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান আগামী দিনে আইন, সমাজ ও বিশ্বমঞ্চে আরও তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখবেন।

জাইমা রহমানের জন্ম ও বেড়ে ওঠা বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির অত্যন্ত প্রভাবশালী এক পরিবারে। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পৌত্রী। তাঁর মাতামহ ছিলেন নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান মরহুম রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান, যিনি পরবর্তীতে সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে পারিবারিকভাবে রাজনৈতিক আবহ ও ঐতিহ্যের মধ্যে বড় হলেও জাইমা রহমান নিজের পথ তৈরি করেছেন আইনচর্চা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে।

শৈশবে তিনি ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মইনুল রোডের ঐতিহাসিক বাসভবনে বেড়ে ওঠেন।

যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানোর আগে তিনি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকায় প্রাথমিক স্তরের লেখাপড়া করেন। পরবর্তীতে পিতা তারেক রহমান কারাবন্দি অবস্থা থেকে জামিনে মুক্তি পেলে ২০০৮ সালে পরিবারের সাথে যুক্তরাজ্যে চলে যান তিনি এবং সেখানে দীর্ঘ সময় পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর মা-বাবার সঙ্গে পুনরায় স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে ফিরে আসেন তিনি।

যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে তিনি আইনে স্নাতক বা এলএলবি সম্পন্ন করেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালে লন্ডনের প্রাচীন ও স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ইনার টেম্পল থেকে কাঙ্ক্ষিত বার-অ্যাট-ল সনদ অর্জন করে ব্যারিস্টার হিসেবে যোগ্যতা লাভ করেন। আন্তর্জাতিক পরিসরে শিক্ষা সম্পন্ন করার পর দেশীয় বিচারব্যবস্থায় যুক্ত হতে তিনি চলতি ২০২৬ সালের জুন মাসে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন।

আইন পেশার পাশাপাশি বৈশ্বিক কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের পরিমণ্ডলে তাঁর পদচারণা শুরু হয়।

জানা যায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ৭৩তম ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট সম্মেলনে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন। তৎকালীন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলে তিনিও ছিলেন। ওই সফরকালে তিনি দক্ষিণ ক্যারোলিনার প্রাক্তন গভর্নর ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সাবেক নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রাক্তন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ডেস্ট্রো এবং উইমেনস ফেলোশিপ ফাউন্ডেশনের প্রধান রেবেকা ওয়াগনারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সাক্ষাৎ করেন। এটি ছিল দলটির কোনো আন্তর্জাতিক আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে তাঁর প্রথম সরাসরি অংশগ্রহণ।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের এক দলীয় মতবিনিময় সভায় প্রথমবারের মতো সরাসরি অংশ নেন তিনি, যেখানে শীর্ষস্থানীয় নেতা মাহবুব উদ্দিন খোকন, রুহুল কবির রিজভী এবং ইউরোপীয় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পেশাগত জীবনের প্রথম ধাপে জাইমা রহমান দেশের শীর্ষস্থানীয় আইন প্রতিষ্ঠান ‘সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস’-এ আইনচর্চা শুরু করেন। সেখানে তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে সাংবিধানিক আইন, প্রাতিষ্ঠানিক ও বাণিজ্যিক চুক্তি এবং কর-সংক্রান্ত জটিল আইনি বিরোধ নিরসনে কাজ করেন।

পেশাগত এই অভিজ্ঞতা তাঁকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যুক্ত হওয়ার পথ তৈরি করে দেয়।

চলতি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে আইনি পরামর্শক বা লিগ্যাল অফিসার হিসেবে নিযুক্ত হন জাইমা রহমান। বর্তমানে তিনি সাধারণ পরিষদ সভাপতির এক্সিকিউটিভ অফিসের আওতায় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আইনি বিষয়াবলি তদারকির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।

পেশাগত ও আইনি ব্যস্ততার বাইরেও তিনি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে নানা সামাজিক উদ্যোগে অংশ নিচ্ছেন। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিচালিত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘সুরভী’র পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে তিনি কাজ করছেন। প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, অন্তর্ভুক্তিমূলক জননীতি, বিচারপ্রার্থী নাগরিকের অধিকার রক্ষা, শিক্ষার সার্বজনীন বিকাশ, লিঙ্গ সমতা এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো দূরদর্শী সামাজিক বিষয়ে তাঁর বিশেষ আগ্রহ ও সক্রিয় পদচারণা রয়েছে।