অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ১০:২০ পিএম
দেশের চিকিৎসাসেবার আধুনিকায়নে আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি মূল্যের উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে দেশে পাঁচটি রোবটিক সার্জারি মেশিন আমদানির বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অব্যবস্থাপনা দূর করে প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ মানুষের দ্বারে মানসম্মত সেবা পৌঁছে দিতে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন জটিল সংকট চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের অনিয়ম রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ১৬ হাজার কোটি টাকার মেগা টেন্ডারের পাশাপাশি ক্যানসার রোগীদের সুচিকিৎসার জন্য বিশেষ রেডিওথেরাপি মেশিন সরবরাহ এবং বিভিন্ন হাসপাতালের জরুরি আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ভৌত অবকাঠামো সম্প্রসারণের কাজ চলছে।
হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত রোগীর চাপের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন তিনি।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের জনসংখ্যার তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল। একজন চিকিৎসকের যেখানে দৈনিক ৫০ জন রোগী দেখার শারীরিক সক্ষমতা থাকে, সেখানে তাকে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ জন রোগী দেখতে হচ্ছে। এর ফলে চিকিৎসকদের ওপর অমানুষিক মানসিক ও শারীরিক চাপ তৈরি হচ্ছে। একজন রোগীর মৃত্যুতে সবার মন কাঁদলেও এই বাস্তব সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নেওয়া দরকার।
তবে চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ থাকলেও পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো প্রকার অবহেলা বা গাফিলতি বরদাশত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ময়মনসিংহ হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে কয়েকজন চিকিৎসককে অনুপস্থিত পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে তাদের দায়িত্ব পালনের রোস্টার জব্দ করা হয়েছে এবং বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের লাগাম টানতে কঠোর নীতিমালার কথা ঘোষণা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো সরকারি হাসপাতালের সীমানার এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো বেসরকারি ক্লিনিক স্থাপন করা যাবে না।
শর্ত পূরণ না করলে ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হবে।
তিনি হুঁশিয়ারি দেন, প্রয়োজনীয় প্রসবকক্ষ না থাকা, রোগী ব্যবস্থাপনায় চরম অব্যবস্থাপনা কিংবা সেবার ঘাটতিতে রোগীর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি ক্লিনিকের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে সকালে ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ফুলপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শৌচাগার আগামী দুই দিনের মধ্যে পরিষ্কার ও সংস্কারের চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেন তিনি। অন্যদিকে তারাকান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখনো অন্তর্বিভাগে রোগী ভর্তি শুরু না হওয়ায় গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই চিকিৎসক পদায়ন করে অন্তর্বিভাগ চালুর নির্দেশ দেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দুটিকে পূর্ণাঙ্গ ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের এসব হাসপাতালে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস, ফিজিওথেরাপি, প্রসূতি মা ও শিশুদের জন্য পৃথক আধুনিক শয্যা চালু করা হবে। এর ফলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর রোগীর উপচে পড়া ভিড় স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে।
মাতৃস্বাস্থ্যসেবা উন্নত করা এবং স্বাভাবিক প্রসবের হার বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশজুড়ে ২৫ হাজার দক্ষ মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য ক্যাডারে নতুন করে পাঁচ হাজার চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বিস্তৃত করতে পুরোনো কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে আধুনিক ফ্যামিলি ওয়েলবিং সেন্টারে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেন, উপপরিচালক ডা. মো. জাকীউল ইসলাম এবং ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন