শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,
কৃষি বাণিজ্যে সম্ভাবনা

কলার মোচা ও মাইজ বিক্রি করে পরিবার চালাচ্ছেন প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা

কৃষি ডেস্ক

অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম

কলার মোচা ও মাইজ বিক্রি করে পরিবার চালাচ্ছেন প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা

কলার মোচা ও কলা কাটার পর ফেলে দেওয়া গাছের ভেতরের নরম অংশ বা মাইজ সংগ্রহ করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গড়ে উঠেছে বিকল্প এক বাণিজ্যিক ধারা। গৃহস্থ ও চাষিদের ফেলে দেওয়া এসব অপ্রচলিত কৃষিজাত উপাদান রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বড় আড়তে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন বহু প্রান্তিক শ্রমিক ও ব্যবসায়ী। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে জানা গেছে, স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে প্রক্রিয়াজাত এসব কলার মোচা ও মাইজ মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও রপ্তানি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হচ্ছে।

বহু বছর ধরে স্থানীয়ভাবে এই পণ্য সংগ্রহের ধারা চলে আসছে।

স্থানীয় এক প্রবীণ ব্যক্তির হাত ধরে প্রায় ৩০ বছর আগে এই ব্যবসার সূচনা হয়। তখন থেকেই কলা কাটার পর ফেলে রাখা গাছের ভেতরের নরম অংশ সংগ্রহ করে ঢাকা পাঠানো হতো। বর্তমানে তাঁর দেখানো পথেই স্থানীয় প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন সংগ্রাহক বাগান থেকে গাছ ও মোচা কেটে আনেন। চাষিরা বাগান বিক্রি না করলেও কলা কেটে নেওয়ার পর গাছ ফেলে দিলে ব্যবসায়ীরা তা সংগ্রহ করে আড়তে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

একটি কলা গাছ কেটে ভেতরের সাদা মাইজ বের করতে সময় লাগে মাত্র পাঁচ থেকে ছয় মিনিট।

ব্যবসায়ীরা জানান, গাছ ছিলে ভেতরের এক ফুট মাপের নরম অংশটি নির্দিষ্ট মাপে কেটে বাজারজাত করা হয়। প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে তিন থেকে পাঁচটি পর্যন্ত মাইজ পাওয়া যায়। গৃহস্থের কাছ থেকে প্রতিটি কলার মোচা কেনা হয় ১০ টাকায়। পরিবহন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ মিলিয়ে আড়তে পৌঁছানো পর্যন্ত খরচ পড়ে ১৫ থেকে ১৬ টাকা। এরপর পাইকারি বাজারে তা ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়। অনেক সময় গৃহস্থরা নিজ উদ্যোগে বাজারে মোচা এনে বিক্রি করেন, যেখানে ১০টি মোচা দিলে ব্যবসায়ীরা ১০০ টাকা পরিশোধ করেন।

সংগৃহীত এসব পণ্য কাওরান বাজার, যাত্রাবাড়ী ও গাজীপুরের আড়তে পাঠানো হয়।

সেখান থেকে খুচরা বিক্রেতা ও হকাররা ভ্যানগাড়িতে করে অথবা মাথায় নিয়ে বিভিন্ন অলিগলিতে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন। গৃহস্থালির রান্নার পাশাপাশি বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় চিংড়ি মাছ দিয়ে কলার মোচা ভাজি তৈরির জন্য এর বেশ চাহিদা রয়েছে। এছাড়া এটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও রক্তের উপকারে সহায়ক বলেও পুষ্টি সচেতনদের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

বর্তমানে ব্যবসায়ীদের এই উদ্যোগের সঙ্গে ১৭ থেকে ১৮ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান ও পারিবারিক জীবিকা সরাসরি জড়িয়ে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে এই ব্যবসার আর্থিক দিক প্রচার হওয়ায় অনেক গৃহস্থ এখন আর সহজে গাছ বা মোচা দিতে চান না। অনেকে বিক্রি না করে গাছেই পচিয়ে ফেলেন, যা জমিতে জৈব সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অন্য সব ব্যবসার মতো এখানেও বাজারে ওঠা-নামা ও আর্থিক ঝুঁকির বাস্তবতা রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।