অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম
পুকুরপাড়ে সবজি চাষ করে মাছ চাষের পাশাপাশি সমন্বিত কৃষিতে বিপুল সাফল্য অর্জন করেছেন এক তরুণ খামারি। মাছের ঘেরের ওপর খালি থাকা মাচা ও পাড়ের পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে লাউ, মিষ্টি কুমড়া ও মাচায় তরমুজ আবাদ করে এরই মধ্যে প্রায় সাত লাখ টাকার কৃষিপণ্য বিক্রি করেছেন তিনি।
প্রতি ইঞ্চি পতিত জমিকে উৎপাদনের আওতায় আনাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য।
ট্যাংরা, পাবদা ও গুলশার মতো দেশি প্রজাতির ক্যাটফিশ শিকারি পাখির আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে প্রতিটি পুকুরের ওপর আগেই জালের সুরক্ষাবেষ্টনী তৈরি করা হয়েছিল। এতে পুকুরপাড়ের জমি ও মাচাগুলো খালি পড়ে থাকায় নিয়মিত আগাছা ও ঘাস জন্মে পরিষ্কার করতে বাড়তি শ্রম লাগত। সেই ভাবনা থেকেই পতিত মাচায় লতাজাতীয় সবজি চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমানে সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচ থেকে সাত বিঘা পরিমাণ পুকুরের আইলে এই ব্যতিক্রমী আবাদ চলছে।
পুকুরপাড়ে সবজি চাষের ফলে ফসলের পাশাপাশি মাছের খামারেও বাড়তি সুবিধা তৈরি হয়েছে।
মাচাগুলোতে লতাপাতার আচ্ছাদন থাকার কারণে প্রখর রোদে পুকুরের পানির অতিরিক্ত তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে, যা মাছের স্বাভাবিক বিচরণের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ জোগায়। এছাড়া জলাশয়ের প্রাকৃতিক আর্দ্রতার সংস্পর্শে থাকায় সবজির আকার যেমন দ্রুত বাড়ে, তেমনি ফলনের স্বাদ চমৎকার হয় এবং রোগবালাইয়ের প্রকোপও অনেক কম থাকে।
চলতি মৌসুমে এই মাচা থেকে উৎপাদিত উচ্চমানের তরমুজ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন দপ্তরে প্রশংসা কুড়িয়েছে। সাধারণ ক্রেতাদের পাশাপাশি বহু মানুষ কৌতূহল নিয়ে মাচায় ঝুলন্ত তরমুজের দৃশ্য দেখতে আসেন।
খামারে ময়না, পল্লবী এবং মানিকগঞ্জের দেলোয়ার জাহানের প্রাকৃতিক কৃষি কেন্দ্র থেকে আনা দেশীয় জাতের বীজ ব্যবহার করা হয়েছে। মিষ্টি কুমড়ার ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছে ব্ল্যাকস্টোনসহ স্থানীয় জলবায়ুর সঙ্গে মানানসই উচ্চফলনশীল জাত। প্রতিটি সুস্থ লাউ গাছ তিনটি ধাপে বা দফায় ফলন দেয়। প্রথম দফায় দুই থেকে তিনটি, দ্বিতীয় দফায় চার থেকে পাঁচটি এবং শেষ দফায় সাত থেকে আটটি ফলন মিলে গড়ে একটি গাছ থেকে ১৫ থেকে ২০টি কচি লাউ পাওয়া যায়। খামারে উৎপাদিত লাউয়ের ওজন সাধারণত দেড় থেকে দুই কেজি এবং কোনোটি সর্বোচ্চ আড়াই কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। মিষ্টি কুমড়ার গড় ওজন হয় এক থেকে দুই কেজি। এছাড়া কালো জাতের প্রতিটি তরমুজের ওজন হয় আড়াই কেজি থেকে শুরু করে সাড়ে চার থেকে পাঁচ কেজি পর্যন্ত।
সামনে পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে বিষমুক্ত নিরাপদ তরমুজ সরবরাহের অংশ হিসেবে নতুন করে জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই দফায় ডোরাকাটা জাতের পাশাপাশি বাইরে হলুদ ভেতরে লাল এবং বাইরে কালো ভেতরে লাল জাতের তরমুজ আবাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মিষ্টতা ও নজরকাড়া রঙের কারণে বাজারে এসব বিশেষ জাতের তরমুজের চাহিদা ও দাম তুলনামূলক বেশি।
তবে প্রতিকূল আবহাওয়া এই সমন্বিত চাষে মাঝেমধ্যে বড় ঝুঁকি তৈরি করে। অতিবৃষ্টির সময় পুকুরের মাটি ধসে পাড় ভেঙে মাচাসহ গাছ পানিতে তলিয়ে গেলে ফলনের ক্ষতি হয়। এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বিজ্ঞানের নিয়ম মেনে মাটির বুনট, বন্ধু ও শত্রু পোকার পার্থক্য এবং উদ্ভিদের শারীরবৃত্তীয় অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে আধুনিক চাষাবাদ চালিয়ে গেলে যে কেউ লাভবান হতে পারেন বলে মনে করেন এই উদ্যোক্তা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন