অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম
গাজীপুরের টঙ্গীর একটি আবাসিক মাদরাসায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিশুর স্বজনদের হাতে মাদরাসার এক শিক্ষককে মারধরের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনা শুরু হয়। অন্যদিকে শিশুর বাবার নেতৃত্বে মাদরাসায় হামলা, ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ তুলেছে কর্তৃপক্ষ। তবে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে শিশুর পিতা জানিয়েছেন, তিনি কেবল অন্যায়ের প্রতিকার চাইতে গিয়েছিলেন।
ঘটনাটি ঘটে গত ২১ অক্টোবর টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ক্বারিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, এর আগের সোমবার মাদরাসার নিচতলার সিঁড়িতে শিশুটির সঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মোসলেম আহম্মদ অশালীন আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
শিশুটির পরিবারের ভাষ্যমতে, ঘটনার পর থেকে সে মাদরাসায় যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করছিল। মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদের মুখে শিশুটি শিক্ষকের অনৈতিক আচরণের বিষয়টি খুলে বলে। এরপর বুধবার পরিবারের সদস্যরা মাদরাসায় উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে জবাবদিহি চান। বিষয়টি জানাজানি হলে সেখানে স্থানীয় লোকজন জড়ো হন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তিকে ওই শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা যায়।
কথোপকথনের একপর্যায়ে চুমু দেওয়ার প্রসঙ্গ উঠলে এক স্বজন তাকে চড় মারেন এবং পরবর্তীতে উপস্থিত অন্যরা তাকে মারধর করতে থাকেন। আড়াই মিনিটের কাছাকাছি অপর এক ভিডিওতেও শিক্ষককে প্রহার করার দৃশ্য এবং কয়েকজনকে তা থামানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে হেফাজতে নেয়। পরে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়।
পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেন। তার দাবি, শিশুর বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল প্রতিষ্ঠানে অনধিকার প্রবেশ করে শিক্ষক ও কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। একই সাথে তারা কার্যালয় ভাঙচুর করে ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মুঠোফোন লুট করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
তবে লুটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিশুর বাবা। তার বক্তব্য, ধস্তাধস্তির সময় একটি সাধারণ কাচের গ্লাস ভেঙেছিল, যা কোনো পরিকল্পিত ভাঙচুর নয়। ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তিনি মাদরাসার সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পরীক্ষার আহ্বান জানান। তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার ব্যাপারে আগেই অধ্যক্ষকে জানানো হলেও কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।
উভয় পক্ষের এই টানাপোড়েনে নিজের ও পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা চেয়েছেন শিশুর বাবা।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ দায়ের করেছে। পুরো ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত চালিয়ে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন