অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুলের স্বাভাবিক রং হারিয়ে সাদা হওয়া স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া। তবে অনেকের ক্ষেত্রে বয়স কম থাকতেই চুল সাদা হতে শুরু করে। জিনগত বা বংশগত কারণ ছাড়াও শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি, হজমের সমস্যা কিংবা অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে অকালে চুল পেকে যেতে পারে। নিয়মিত পুষ্টিকর কিছু খাবার গ্রহণের মাধ্যমে এই সমস্যা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
ডিম চুলের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি খাবার। এতে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, ভিটামিন বি১২ এবং বায়োটিন। শরীরে এসব উপাদানের অভাব দেখা দিলে অল্প বয়সেই চুল সাদা হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। চুলের স্বাভাবিক রং ধরে রাখতে খনিজ উপাদান বিশেষ ভূমিকা রাখে।
জিঙ্ক, তামা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য খনিজ সমৃদ্ধ বীজ যেমন কুমড়োর বীজ, সূর্যমুখীর বীজ কিংবা কালো তিল চুলের জন্য দারুণ উপকারী। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এসব বীজ রাখলে চুলের প্রাকৃতিক রঞ্জক বা পিগমেন্টেশন ভালো থাকে। এর পাশাপাশি দুধ এবং দই প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন বি১২-এর উৎকৃষ্ট উৎস হিসেবে কাজ করে। চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ফলিকলের সুরক্ষায় চিনি ছাড়া ঘরে পাতা তাজা দই খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।
ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর আমলকি শরীরে মেলানিন উৎপাদনে সহায়তা করে, যা চুলের কালো রং বজায় রাখতে কার্যকর। প্রতিদিনের সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে কাঁচা আমলকি চিবিয়ে খাওয়া কিংবা চিনি ছাড়া এর রস পান করা বিশেষ ফলদায়ক।
অকালে চুল পাকা ঠেকাতে ডালিমও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডালিমে থাকা ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৬ এবং ফোলেট মাথার ত্বকের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে কাজ করে।
পালং শাক আয়রন ও ফোলেটে সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি দেহে রক্তের স্বল্পতা দূর করে এবং চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয়।
এছাড়া নিয়মিত আখরোট খেলে তা চুলের প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। তবে পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এসব খাবার খেলেই যে রাতারাতি পাকা চুলের সমাধান হয়ে যাবে, বিষয়টি এমন নয়। সমস্যা যদি বংশগত বা অন্য কোনো জটিল শারীরিক কারণে হয়, তবে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই যুক্তিযুক্ত।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন