বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

বিজয়া দশমীর পর কীভাবে ত্বকের যত্ন নেবেন জেনে নিন সঠিক নিয়ম

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২১, ২০২৬, ০৮:০১ পিএম

বিজয়া দশমীর পর কীভাবে ত্বকের যত্ন নেবেন জেনে নিন সঠিক নিয়ম

ছবি: Ai

শারদীয় দুর্গোৎসবের টানা ব্যস্ততা, মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরাঘুরি আর ভারি সাজসজ্জার পর বিদায়ের সুর নিয়ে আসে বিজয়া দশমী। আনন্দঘন দিনগুলোতে নতুন পোশাক, নিপুণ রূপসজ্জা এবং দীর্ঘ সময় যানজট ও ভিড় ঠেলে প্রতিমা দর্শনের ক্লান্তি সরাসরি প্রভাব ফেলে শরীরে। দীর্ঘ সময় মেকআপ পরে থাকা, পথের ধুলাবালি, যানবাহনের ধোঁয়া এবং রাতের পর রাত জেগে থাকার কারণে ত্বকে দেখা দিতে পারে মারাত্মক রুক্ষতা, অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব কিংবা ব্রণের উপদ্রব। উৎসবের ইতি টানার সঙ্গে সঙ্গে রূপসজ্জা ধুয়ে ফেলে ত্বকের স্বাভাবিক সতেজতা ও সুস্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনতে বাড়তি মনোযোগ দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন রূপবিশেষজ্ঞরা।

ক্লান্তির মাঝেও যত্ন নিশ্চিত করাই আসল। উৎসবের দিনগুলোতে ত্বকের ওপর যে ধকল যায়, তা কাটাতে সবার আগে দরকার পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক আর্দ্রতা। যত রাতই হোক কিংবা শরীর যতই অবসন্ন লাগুক, মেকআপ না তুলে বিছানায় যাওয়া ত্বকের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, ঘরে ফিরে প্রথমে মেকআপ তোলার উপযোগী ক্লিনজার অথবা মাইসেলার ওয়াটার ব্যবহার করে প্রসাধন ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। এরপর একটি মৃদু ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে, যা ত্বকের গভীরে জমে থাকা অবশিষ্ট প্রসাধনসামগ্রী ও ঘাম দূর করতে সাহায্য করবে। তবে বারবার মুখ ধোয়া বা ত্বক জোরে ঘষাঘষি করার অভ্যাস উপকারের বদলে উল্টো ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

বাইরে দীর্ঘ সময় থাকার ফলে ত্বকে যে টানটান ভাব ও শুষ্কতা তৈরি হয়, তা দূর করতে প্রয়োজন উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার। এ সময় ত্বককে পর্যাপ্ত আর্দ্র রাখতে নিয়মিত প্রচুর পানি পান করতে হবে এবং রাতের ঘুমের ঘাটতি পূরণ করা আবশ্যক। দ্রুত সতেজতা পাওয়ার আশায় একসঙ্গে অনেক নতুন রাসায়নিক প্রসাধনী ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন নেই।

ঘাম ও ধুলোবালির মিশ্রণে ত্বকের রন্ধ্র বন্ধ হয়ে যাদের ব্রণের প্রকোপ বাড়ে, তাদের জন্য মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত মুখ পরিষ্কারের পাশাপাশি মেকআপের ব্রাশ ও স্পঞ্জও জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। মুখে ব্রণ দেখা দিলে তা খোঁটাখুঁটি করা সম্পূর্ণ বর্জনীয়। ত্বকে কোনো ধরনের জ্বালাপোড়া, লালচে ভাব বা অস্বস্তি অনুভূত হলে রাসায়নিক এক্সফোলিয়েটিং উপাদান ব্যবহার বন্ধ রেখে প্রয়োজনে অভিজ্ঞ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে।

উৎসবের প্রভাব কেবল মুখের ত্বকেই সীমাবদ্ধ থাকে না; শরীর ও চুলের সুরক্ষাও সমান জরুরি। উৎসব শেষে আরামদায়ক গোসল ঘাম ও জমে থাকা ময়লা দূর করে শরীরকে স্বস্তি দেয়। গোসলের পর শরীরের ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগানো উচিত। চুলে স্টাইলিং পণ্য কিংবা হেয়ার স্প্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকলে একটি ভালো মানের মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করে ফেলা দরকার। পরিমিত পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও নিয়মিত সাধারণ কিছু পরিচর্যাই উৎসব-পরবর্তী সময়ে ত্বক ও শরীরকে পুনরায় সতেজ রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে বলে দিনাজপুর টিভি ডট কম-কে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।