অক্টোবর ১১, ২০২৬, ১১:১৬ এএম
মাছের ঝোল-ভাত কিংবা খাসির মাংস, বাঙালির কাছে ডান হাত দিয়ে খাবার মেখে খাওয়ার তৃপ্তিই আলাদা। চামচে খেলে যেন সেই স্বাদটাই ঠিক জমে না। কিন্তু ফ্যাশন সচেতনদের এই অভ্যাসের সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে নতুন এক অনুষঙ্গ।
নখের সৌন্দর্য বাড়াতে অনেকেই করছেন জেল ম্যানিকিওর, ব্যবহার করছেন কৃত্রিম নখের এক্সটেনশন। কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন, ওই শখের চকচকে নখ দিয়ে যখন গরম ভাতে ডাল-তরকারি মাখছেন, তখন খাবারের সঙ্গে পেটে আর কী কী যাচ্ছে?
নেইল পলিশ তৈরিতে ফর্মালডিহাইড, টলুইন ও ডিবিউটাইল ফথ্যালেটের মতো বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয়। ফলে ডান হাত দিয়ে খাবার মাখার সময় নেইল পলিশের অতি সূক্ষ্ম টুকরো খুব সহজেই ভাতের সঙ্গে মিশে যায়। আর সেই খাবার সরাসরি পাকস্থলীতে পৌঁছায়। নখ নিজে কেমিক্যাল না শুষলেও, এই রাসায়নিক পেটে গিয়ে হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। পাশাপাশি, দীর্ঘমেয়াদি অ্যালার্জি এবং হজমের সমস্যারও কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অতিরিক্ত রাসায়নিকের প্রলেপে নখ নিজস্ব আর্দ্রতা হারিয়ে রুক্ষ ও পাতলা হয়ে যায়। সহজেই ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। কিউটিকলের চারপাশে লালচে ভাব, র্যাশ ও চুলকানির মতো সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে যারা মা হতে চলেছেন বা যাদের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাদের এই জেল নেল পলিশ বা এক্সটেনশন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
নেইলপলিশের রাসায়নিকের চেয়েও দৈনন্দিন জীবনে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হাত ও নখের পরিচ্ছন্নতা। লম্বা নখ কিংবা কৃত্রিম নখের নিচে ময়লা ও জীবাণু জমে থাকার আশঙ্কা থাকে। খাবার ধরার আগে হাত ভালোভাবে না ধুলে সেই ময়লা খাবারের সংস্পর্শে আসতে পারে। বিশেষ করে কৃত্রিম নখের গোড়ায় ফাঁক তৈরি হলে সেখানে আর্দ্রতা ও ময়লা আটকে থাকতে পারে। ফলে নখের নিচে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে যায়। তাই নখ ছোট ও পরিষ্কার রাখা এবং খাবার তৈরির আগে ও খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস জরুরি।
বারবার জেল নেইল পলিশ লাগানো, শক্ত করে ঘষে তোলা কিংবা ভুলভাবে কৃত্রিম নখ খুলে ফেলার ফলে নখ পাতলা, রুক্ষ ও ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে। নখের চারপাশের ত্বকে লালচে ভাব, চুলকানি বা প্রদাহও দেখা দিতে পারে। নখে ব্যথা, রং পরিবর্তন কিংবা অস্বাভাবিক ফোলা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
নখের দৈর্ঘ্য ও পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর রাখা জরুরি। খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন এবং নখের নিচের অংশও ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। নেইলপলিশ উঠে গিয়ে খাবারে মিশে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে সেটি তুলে ফেলুন। জেল নেইলপলিশ বা এক্সটেনশন করালে প্রশিক্ষিত পেশাদারের সাহায্য নিন এবং নিজে জোর করে তা তুলে ফেলবেন না। নখের যত্নে হালকা গরম পানিতে অল্প সময় হাত ভিজিয়ে নিয়ে ময়শ্চারাইজার বা কিউটিকল অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। নখের গোড়ায় শ্যাম্পু বা নানা উপাদান মিশিয়ে ঘরোয়া পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই।
ফ্যাশন হোক নিজের পছন্দের, কিন্তু পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে আপস করে নয়। চকচকে নখের পাশাপাশি পরিষ্কার হাতও যে সুস্থ থাকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, সেটি ভুলে গেলে চলবে না।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন