মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬,
নখের স্বাস্থ্য

সৌন্দর্যের আড়ালে নেইলপলিশে নখের মারাত্মক ক্ষতি

স্বাস্থ্য ডেস্ক

অক্টোবর ৬, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম

সৌন্দর্যের আড়ালে নেইলপলিশে নখের মারাত্মক ক্ষতি

নখকে ঝকঝকে ও পরিপাটি দেখাতে নেইলপলিশের জুড়ি নেই। বিশেষ করে জেল নেইলপলিশ ও নেইল এক্সটেনশন এখন ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হলেও ঘনঘন এই অভ্যাসে নখ ও আশপাশের ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি বলছে, বারবার জেল ম্যানিকিউরের ফলে নখ ভঙ্গুর, খসখসে বা ফেটে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। সাধারণ নেইলপলিশ ব্যবহারে সবারই সমস্যা হবে এমন নয়। তবে বারবার জেল ম্যানিকিউর, এক্সটেনশন, অতিরিক্ত ফাইলিং বা শক্তভাবে পলিশ তুলে ফেলার অভ্যাসে নখ দুর্বল ও পাতলা হয়ে যায়। পলিশ করার প্রক্রিয়ায় অ্যাসিটোনে দীর্ঘ সময় নখ ভিজিয়ে রাখা, পলিশ ঘষে তুলে ফেলা এবং অতিরিক্ত ফাইলিংয়ের কারণে নখের স্বাভাবিক স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বারবার এমন ঘষাঘষির পর নখের রং ও চেহারায় পরিবর্তন আসতে পারে এবং অনেকের ক্ষেত্রে নখে সাদা দাগও দেখা যায়।

ম্যানিকিউরের সময় কিউটিকল খুব গভীরভাবে কাটা বা সরিয়ে ফেলার অভ্যাসও বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। কিউটিকল মূলত নখের চারপাশের ত্বককে জীবাণু থেকে সুরক্ষিত রাখে। এটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ব্যাকটেরিয়া বা অন্য জীবাণু প্রবেশ করে প্রদাহ কিংবা সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

নেইল কসমেটিকসে থাকা কিছু রাসায়নিক উপাদান সংবেদনশীল মানুষের ত্বকে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে জেল ও কৃত্রিম নখে ব্যবহৃত কিছু রাসায়নিকের সংস্পর্শে নখের চারপাশে লালচে ভাব, চুলকানি বা জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে। মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নেইল পলিশ ও নখের অন্যান্য প্রসাধনীতে ফ্যাথালেটস, টলুইন, ফর্মালডিহাইড এবং কৃত্রিম নখের পণ্যে মেথাক্রিলেটের মতো উপাদান থাকে। প্রজনন-সংক্রান্ত বিষাক্ততার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগামী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে প্রসাধনীতে টিপিও নামের একটি উপাদান ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।

নখের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সবসময় পলিশ না রেখে মাঝেমধ্যে বিরতি দেওয়া উচিত। জেল বা অন্য কোনো পলিশ নিজে নিজে খুঁটে বা টেনে তুলে ফেলা উচিত নয়, কারণ এতে নখের ওপরের স্তর উঠে গিয়ে নখ আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। পলিশ লাগানোর আগে বেস কোট ব্যবহার করলে রঙের সাথে নখের সরাসরি সংস্পর্শ কিছুটা কমানো যায়। পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ড বেছে নেওয়ার পাশাপাশি নতুন কোনো পণ্য ব্যবহারে ত্বকে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো। নিয়মিত নখ পরিষ্কার রাখা এবং অতিরিক্ত ফাইলিং বা কিউটিকল কাটা এড়িয়ে চললে সৌন্দর্যের পাশাপাশি নখের স্বাভাবিক স্বাস্থ্যও অনেকটাই ভালো রাখা সম্ভব।