বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,
আগাম সবজি চাষ

মেহেরপুরে শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক ও বাম্পার ফলনের আশা

কৃষি ডেস্ক

অক্টোবর ২২, ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম

মেহেরপুরে শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক ও বাম্পার ফলনের আশা

মেহেরপুরে শীতকালীন সবজি আবাদ ঘিরে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠগুলোতে এখন কৃষকদের ব্যস্ত সময় কাটছে। কেউ আগাম জাতের ফসল তুলে বাজারে নিচ্ছেন। আবার অনেকেই নতুন চারার পরিচর্যা করছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে মেহেরপুর জেলায় মোট পাঁচ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শীতজুড়ে বাজারে যাতে সবজির কোনো সংকট না হয়, সেজন্য কৃষকরা ধাপে ধাপে জমিতে চারা রোপণ করছেন। এর ফলে পুরো মৌসুমজুড়ে দফায় দফায় উৎপাদিত ফসল বাজারে সরবরাহ করার সুযোগ নিশ্চিত হচ্ছে।

জেলার চকশ্যামনগর, গোভিপুর, বুড়িপোতা, শোলমারি ও কাথুলি ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে চাষিদের নিরবচ্ছিন্ন কর্মব্যস্ততা লক্ষ্য করা গেছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কৃষকরা জমি চাষ, মই দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার ও বেড তৈরির কাজে ঘাম ঝরাচ্ছেন। আবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে বীজ বপন, চারা রোপণ ও পোকা দমনে কীটনাশক ছিটানোর কাজ। মাঠের কাজে কৃষকদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি দিনমজুররাও অংশ নিচ্ছেন, যা স্থানীয় পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য মৌসুমি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। তবে চলতি মৌসুমে কৃষি শ্রমিক সংকট, চড়া মজুরি এবং সারের কৃত্রিম টানাটানি কৃষকদের ওপর নতুন আর্থিক চাপ তৈরি করেছে।

জেলায় ইতোমধ্যে প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে খরিপ দুই মৌসুমের আগাম শীতকালীন শাকসবজির আবাদ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, আলু, শিম, করলা, মুলা, বেগুন এবং লালশাক, পুঁইশাক ও পালংশাকের মতো নানা ধরনের ফসল রয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে উৎপাদনের সার্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

সদর উপজেলার শোলমারি গ্রামের সবজি চাষি সানোয়ার হোসেন জানান, তিনি চলতি মৌসুমে তিন বিঘা জমিতে আগাম জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করেছেন। জমি তৈরি, চারা রোপণ, বেড তৈরি, নিড়ানি, সেচ, সার ও কীটনাশক বাবদ প্রতি বিঘায় তার খরচ হচ্ছে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। তবে এবার নিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে সেচ বাবদ প্রতি বিঘায় প্রায় এক হাজার ৫০০ টাকা খরচ বেঁচে গেছে। বাজারে ফসলের কাঙ্ক্ষিত দাম পেলে ভালো মুনাফার আশা করছেন তিনি।

অন্যদিকে অতিবৃষ্টির কারণে বীজতলার ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরেছেন মনোহরপুর গ্রামের কৃষক গোলাম মোস্তফা। অতিরিক্ত বৃষ্টির তোড়ে তার তৈরি করা বীজতলা পরপর দুইবার নষ্ট হয়ে যায়। পরে তৃতীয় দফায় তৈরি করা বীজতলার চারা এখন রোপণের উপযোগী হয়েছে। তিনি মোট পাঁচ বিঘা জমিতে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও ওলকপির আবাদ করবেন।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কাজী শাহনেওয়াজ জানান, দিনে ঝলমলে রোদ ও রাতে ঠান্ডার বর্তমান আবহাওয়া আগাম সবজি আবাদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষকরা আগাম ফসল তুলে বাজারে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন এবং মাঠপর্যায়ে তাদের প্রয়োজনীয় কারিগরি ও কৃষি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।