অক্টোবর ২১, ২০২৬, ০৬:২২ পিএম
বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী করে উটপাখি ও ইমু পালন এখন বাণিজ্যিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত তৈরি করেছে। খুলনায় গড়ে ওঠা একটি সমন্বিত খামারে এই বিশাল আকৃতির বিদেশি পাখিগুলোর সফল প্রজনন ও পরিচর্যার মাধ্যমে মাংস ও বাচ্চার বাজারে ইতিবাচক সাফল্য দেখা যাচ্ছে।
খুলনার এই খামারে বর্তমানে পূর্ণবয়স্ক ১৫টি ইমু পাখি রয়েছে।
খামার ব্যবস্থাপকের তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক এই পাখিগুলোর একেকটির ওজন প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ কেজি পর্যন্ত হয়। সোজা হয়ে দাঁড়ালে এদের উচ্চতা দাঁড়ায় প্রায় পাঁচ থেকে পৌনে ছয় ফুট। সাধারণ পোলট্রির তুলনায় এদের রোগবালাই ও মৃত্যুহার অনেক কম। খামারে এদের মূল খাদ্য হিসেবে নিয়মিত ফিড ও ভাত দেওয়া হয়। প্রচণ্ড গরমে দিনে দুই থেকে তিনবার গোসল করানো এবং পানিতে ইলেকট্রোলাইট বা স্যালাইন মিশিয়ে খাওয়ানোর প্রয়োজন পড়ে।
এই পাখিগুলোর মাংসে প্রায় ৯৮ শতাংশ চর্বিমুক্ত প্রোটিন থাকে এবং চর্বির পরিমাণ মাত্র দুই শতাংশ। ডায়েট সচেতনদের জন্য এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এই স্বাস্থ্যকর মাংসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। খামারে ইমু পাখির এক জোড়া বাচ্চার দাম শুরু হয় প্রায় ৩০ হাজার টাকা থেকে এবং পূর্ণবয়স্ক এক জোড়া পাখির বাজারদর প্রায় দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে।
খামারের মূল আকর্ষণ পৃথিবীর বৃহত্তম পাখি উটপাখি।
খামার স্বত্বাধিকারী সজীব জানান, খামারে পূর্ণবয়স্ক এক জোড়া উটপাখির পাশাপাশি সম্প্রতি নিজস্ব উদ্যোগে ২০টি উটপাখির বাচ্চা সফলভাবে ফোটানো হয়েছে। সাধারণত বাংলাদেশে সাফারি পার্ক কিংবা নির্দিষ্ট গবেষণাগারে ইনকিউবেটরের মাধ্যমে উটপাখির বাচ্চা উৎপাদন করা হয়। এই খামারেও কৃত্রিম প্রক্রিয়ায় ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা উৎপাদন করা হচ্ছে। সদ্য ফোটা বাচ্চাগুলো মুরগির ছানার মতোই নিজে থেকে খাবার খুঁটে খায়।
বাচ্চাদের সুস্থ রাখতে প্রথম ধাপে ব্রয়লার স্টার্টার ফিডের পাশাপাশি সজনে পাতা, পেঁপে পাতা, সিদ্ধ ডিম এবং হজমের সুবিধার্থে গুঁড়ো লাইমস্টোন পাথর খাওয়ানো হয়।
পাখিদের খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান উদ্যোক্তা সজীব। তিনি জানান, উটপাখি বা ইমুর পাকস্থলীর হজম প্রক্রিয়া সাধারণ পাখির চেয়ে আলাদা। এদের সামনে প্লাস্টিক, পলিথিন, সুতলি বা ধাতব ব্লেড জাতীয় ধারালো জিনিস থাকলে তা গিলে ফেলে, যা হজম না হয়ে বিষক্রিয়া তৈরি করে। দীর্ঘদিন গবেষণার পর তিনি বুঝতে পেরেছেন যে খামারের মেঝে সব সময় শুকনো, পরিষ্কার এবং আবর্জনামুক্ত রাখা জরুরি।
বাণিজ্যিক বিক্রির ক্ষেত্রে অন্তত এক মাস বয়সী বাচ্চা কেনাই সবচেয়ে নিরাপদ। এক মাস বয়সী উটপাখির বাচ্চার দাম পড়ে জোড়া প্রতি প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা। দীর্ঘ সাত বছর ধরে লালন-পালন করা পূর্ণবয়স্ক এক জোড়া উটপাখির পেছনে খাবারের পেছনে বিপুল ব্যয় হওয়ায় এগুলোর আনুমানিক আর্থিক মূল্য প্রায় চার লাখ টাকা। বছরজুড়ে বাচ্চা বিক্রির মাধ্যমে খামারের সমস্ত পরিচালনা ব্যয় মিটিয়েও সন্তোষজনক মুনাফা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন