বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত

সৌদি সামরিক ঘাঁটিতে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ২১, ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম

সৌদি সামরিক ঘাঁটিতে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের এডেনে অবস্থিত একটি সৌদি সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে হুথিদের নিয়ন্ত্রিত সশস্ত্র বাহিনী। বুধবার এক বিবৃতিতে বাহিনীর আনুষ্ঠানিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এডেনের বদর ক্যাম্পে থাকা সৌদি অপারেশনস রুমে সফলভাবে আঘাত হেনেছে তাদের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রটি।

তবে একই দিনে প্রদত্ত পৃথক এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে নতুন করে কোনো অভিযান পরিচালনার খবর দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেন তিনি। মদিনার আকাশসীমায় হুথিদের ড্রোন ভূপাতিত করার যে দাবি সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রচার করেছে, তা সরাসরি উড়িয়ে দিয়ে এটিকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার আখ্যা দিয়েছেন ইয়াহিয়া সারি।

তিনি উল্লেখ করেন, মুসলিম বিশ্বকে বিভ্রান্ত করতেই এ ধরনের দাবি সামনে আনা হয়েছে, যার পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য এখন স্পষ্ট। একই সাথে মক্কা ও মদিনাকে যেকোনো ধরনের সামরিক লক্ষ্যবস্তুর বাইরে রাখার ঘোষিত নীতি তারা সবসময় অটুট রেখেছেন বলে পুনর্ব্যক্ত করেন।

এর আগে ২০ অক্টোবর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি জানান, ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ইয়েমেনের আটটি প্রদেশের বেসামরিক জনবসতি ও অবকাঠামোতে সৌদি জোট অন্তত ৯৩টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ওই বিমান হামলায় আল-জৌফ, তাইজ, সায়াদা, মারিব, হাজ্জাহ, লাহাজ, আমরান ও ইব্ব প্রদেশে বহু সাধারণ নাগরিক হতাহত হন।

তিনি জানান, খামিস মুসাইত, তায়েফ, আল-খারজ ও শারুরা বিমানবন্দর থেকে ওড়া এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে এসব আক্রমণ সংঘটিত হয়। চলমান সংঘাতের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইয়েমেনের ওপর সৌদি বিমান হামলার মোট সংখ্যা দুই হাজার ৭৯৩টিতে পৌঁছেছে।

এদিকে সংবাদমাধ্যম আল মায়াদিনের বরাতে জানা গেছে, ধুবাব জেলার আল-কাদাহা উপকূলীয় এলাকায় একটি মাছ ধরার নৌকায় সৌদি জঙ্গিবিমান থেকে বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। এতে আটজন জেলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। সেখানে প্রথম দফার হামলার পর প্রাণে বেঁচে যাওয়া জেলেরা পালানোর চেষ্টা করলে যুদ্ধবিমানগুলো পুনরায় ফিরে এসে দ্বিতীয় দফা বোমা ফেলে তাঁদের হত্যা করে।

এর আগে ১৯ অক্টোবর হুথিরা ৪৮ ঘণ্টার এক সমন্বিত সামরিক অভিযানের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করেছিল। সেখানে তারা সৌদি আরবের বিভিন্ন কৌশলগত তেল ও সামরিক স্থাপনায় ছয়টি বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবি জানায়।

ওই অভিযানের আওতায় ইয়ানবুতে অবস্থিত সৌদি আরামকোর শোধনাগার, শায়বাহ তেলক্ষেত্র, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, খামিস মুসাইত বিমানঘাঁটি, একটি নৌবাহিনীর ক্যাম্প ও আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

হুথি মুখপাত্রের ভাষ্যমতে, ক্রুজ ও ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ব্যবহার করে সেসব সমন্বিত হামলা চালানো হয়। এর ফলে আরামকো ও শায়বাহ তেলক্ষেত্রে সরাসরি আঘাতের পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এছাড়া আবহা ও খামিস মুসাইত ঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় কিছু সময় বিমান ওঠানামা বিঘ্নিত হয় এবং বীর আসকরে অবস্থিত একটি কৌশলগত সৌদি সামরিক রাডার পুরোপুরি ধ্বংস হয়।