বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের শঙ্কা

সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি ইরানের, হামলা হলে পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ২১, ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি ইরানের, হামলা হলে পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি

ছবি: দিনাজপুর টিভি গ্রাফিক্স

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মাত্রা বাড়ার প্রেক্ষাপটে সর্বাত্মক, বহুমাত্রিক ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইরান। যেকোনো ধরনের বহিঃআগ্রাসন ও গুপ্তহত্যার মুখে তেহরান আর কোনো সংযম বা সীমাবদ্ধতা মেনে চলবে না বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দেশটির এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা এই কড়া বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখন যেকোনো পরিস্থিতির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। মূল আগ্রাসী শক্তির পাশাপাশি আঞ্চলিক পর্যায়ে তাদের সহযোগী ও মদদদাতাদের আওতাধীন লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানার সক্ষমতা নিয়ে তেহরান অপেক্ষায় রয়েছে।

ইরানের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্ধৃত করে জানানো হয়, নতুন করে সামরিক আগ্রাসন ঘটলে তার প্রতিক্রিয়া কেবল আক্রমণকারী দেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। পুরো অঞ্চলজুড়ে তাদের কৌশলগত স্থাপনা ও মিত্রদের অবকাঠামোও ইরানি প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের আওতায় আনা হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে একই যুদ্ধশক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে ওই কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটির এককভাবে যুদ্ধে জড়ানোর ধারণা একটি তিক্ত রসিকতা ছাড়া কিছু নয়। দুই দেশের কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য হুমকি ইরানকে আত্মরক্ষামূলক পাল্টা ব্যবস্থার আইনগত ও নৈতিক ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এসব ইরানি পক্ষের আনুষ্ঠানিক দাবি, যা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে নতুন করে ইরানের অবকাঠামো, নেতৃত্ব ও পারমাণবিক স্থাপনায় বড় ধরনের সামরিক আঘাত হানার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। চলতি অক্টোবরের শুরুতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এমন একটি সামরিক রূপরেখা তৈরি করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আপত্তির কারণে তখন তা স্থগিত হয়।

সামনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনা গভীর অচলাবস্থায় পড়েছে। মার্কিন প্রশাসনের একাংশের ধারণা, হোয়াইট হাউসের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল করার পাশাপাশি বাড়তি সুবিধা আদায়ের কৌশল হিসেবে তেহরান আলোচনার গতি কমিয়ে রেখেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন দৃশ্যমান কোনো আস্থা তৈরির পদক্ষেপ না নিলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের সংলাপে বসবে না তেহরান। এ প্রক্রিয়া সচল করার আগে তাদের আরোপিত সব দাবি মানতে হবে।

একই সুর তুলে ধরেছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি উল্লেখ করেন, সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রকে তেহরানের পেশ করা সাতটি মৌলিক শর্ত মেনে নিতে হবে, কারণ এ যুদ্ধের সূচনা করে ওয়াশিংটন নিজেই বড় সংকটে পড়েছে।

গত জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সই হওয়া চৌদ্দ দফার ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিপরীতে হরমুজ প্রণালি ধাপে ধাপে উন্মুক্ত করার কথা ছিল। তবে এই সমঝোতার বর্তমান বাস্তবায়ন স্থবির রয়েছে।

নতুন করে সংঘাত শুরু হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব পড়লে বিশ্বব্যাপী তেলের বাজার ও পণ্য পরিবহন দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিতে পড়বে।