অক্টোবর ২১, ২০২৬, ১০:০৫ এএম
ইরান যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা চলার দাবি করলেও কয়েক দিনের ব্যবধানে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংঘাত শুরুর পর থেকেই তাঁর এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান বিশ্বজুড়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে—হোয়াইট হাউস কি সত্যিই সামরিক সংঘাতের অবসান চায়, নাকি যুদ্ধ অবসানের শর্ত নির্ধারণের আসল চাবিকাঠি এখন অন্য শক্তির হাতে বন্দি।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্সের সাম্প্রতিক বক্তব্যে এই সংকটের গভীরতা স্পষ্ট হয়েছে। তিনি প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছেন যে বন্ধুভাবাপন্ন ও বৈরী—উভয় দেশের সরকারই ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করতে তৎপর থাকে। এমনকি ইসরাইল সরকারের ভেতরের কিছু ব্যক্তি তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির বিরুদ্ধে মার্কিন জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালিয়েছিল। বিদেশি এই তৎপরতার জেরে স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণে ওয়াশিংটনকে চড়া রাজনৈতিক মূল্য দিতে হচ্ছে বলে তিনি সতর্ক করেন।
মার্কিন সরকারি নথি অনুযায়ী, ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণার সাবেক ব্যবস্থাপক ব্র্যাড পারস্কেলের মালিকানাধীন ক্লক টাওয়ার এক্স নামের একটি লবিং প্রতিষ্ঠান ইসরাইলের স্বার্থে কাজ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি হাভাস মিডিয়া জার্মানির মাধ্যমে তরুণ আমেরিকানদের মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণ, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বয়ান তৈরি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রচারণার কাজ চালায়। ডিজিটাল মাধ্যমে এই বিপুল প্রচারণায় লাখ লাখ ডলার ব্যয়ের হিসাবও সরকারি রেকর্ডে মিলেছে। পারস্কেল অবশ্য শান্তি আলোচনা বানচালের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে মধ্যস্থতাকারী মার্কিন পরামর্শক ও রাজনৈতিক দলীয় প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশি বয়ান ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি এখন উন্মুক্ত।
আমেরিকা ফার্স্ট স্লোগানের কার্যকর প্রয়োগ নিয়েও এখন বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ ঘোষণা করার চেয়ে তা বন্ধ করতে অনেক বেশি রাজনৈতিক সাহসের প্রয়োজন পড়ে। কারণ সংঘাতের শুরুতে পারমাণবিক অস্ত্র ঠেকানোর যে সীমিত লক্ষ্য থাকে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাতে নতুন নতুন ভূরাজনৈতিক দাবি যুক্ত হতে থাকে। তখন সংযমকে দুর্বলতা কিংবা সমঝোতাকে আত্মসমর্পণ হিসেবে চিত্রায়িত করে সুবিধাভোগী পক্ষগুলো।
ইসরাইলের নিরাপত্তা স্বার্থ আর ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ সব সময় একই বিন্দুতে মেলে না। তেল আবিব ক্রমাগত সামরিক চাপ বজায় রাখাকে আত্মরক্ষার কৌশল মনে করলেও যুক্তরাষ্ট্রকে তেলের আন্তর্জাতিক বাজার, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মার্কিন সেনাদের সুরক্ষার ঝুঁকি বিবেচনায় নিতে হয়। নীতিনির্ধারকরা বলছেন, বিদেশি সরকার কিংবা অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অনুদানদাতাদের সন্তুষ্ট করার বাধ্যবাধকতা থাকলে একজন প্রেসিডেন্টের কৌশলগত স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন