মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

সৌদি আরবে যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ২০, ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

সৌদি আরবে যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের উপর্যুপরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সৌদি আরবকে রক্ষা করতে দেশটিতে উন্নত যুদ্ধবিমান মোতায়েন করছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানবাহিনীর (আরএএফ) আধুনিক টাইফুন যুদ্ধবিমান পাঠানোর এই প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম।

লন্ডনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি আরবের প্রধান প্রধান শহর এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে আকাশপথে সুরক্ষা দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি সৌদি রাজধানী রিয়াদ এবং দেশটির উপকূলবর্তী গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় হুথিদের মারাত্মক হামলার প্রেক্ষাপটে এই সামরিক সিদ্ধান্ত সামনে এলো।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং মঙ্গলবার এক লিখিত বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে, এই যুদ্ধবিমানগুলো সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক দায়িত্ব পালন করবে।

তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, ব্রিটিশ বিমানগুলো থেকে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক আঘাত পরিচালনা করা হবে না।

দীর্ঘদিন ধরে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনীর সাথে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে ইরান-ঘনিষ্ঠ হুথি বিদ্রোহীরা।

সৌদি সরকারি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় অন্তত ১৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

এর মধ্যে গত ১০ অক্টোবর রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো একটি ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০৮ জন আহত হন। সৌদি আরবের মাটিতে বিগত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা।

হুথিদের দাবি, রাজধানী সানাসহ পশ্চিম ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকার ওপর চালানো যৌথ বিমান হামলার পালটা প্রতিশোধ হিসেবে তারা এসব অভিযান পরিচালনা করছে।

এরই ধারাবাহিকতায় চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ইয়েমেনের মধ্যাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশের আতাক শহরের কাছে অবস্থিত আল-আলাম প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে হুতিদের ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ৭০ জনেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সৌদি শত্রুপক্ষের ঘাঁটি লক্ষ্য করেই ওই আঘাত হানা হয়েছিল।

সংঘাতের ভয়াবহ মানবিক চিত্র উঠে এসেছে উভয় পক্ষের তথ্যে।

উত্তর-পশ্চিম ইয়েমেনের হুথি-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে সৌদি জোটের বিমান ও কামান হামলায় তাদের ভূখণ্ডে অন্তত ১৪১ জন নিহত এবং ৩৯৫ জন আহত হয়েছেন।

বিপরীতে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৬ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী চলা অব্যাহত সংঘাতে এ পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ২৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সৌদি আরবের অভ্যন্তরে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও সামরিক সরঞ্জাম দ্রুত স্থানান্তর ও পুনর্বিন্যাসে সহায়তা করার জন্য সামরিক উপদেষ্টাদের পাশাপাশি একটি আরএএফ এ৪০০এম (RAF A400M) পরিবহন বিমান পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য।

এর আগে থেকেই সৌদি প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের স্বার্থে যুদ্ধবিমানে মাঝআকাশে জ্বালানি সরবরাহ করে আসছে যুক্তরাজ্য, যার মেয়াদ নতুন করে আরও ৯০ দিনের জন্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং মন্তব্য করেন, রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর ঘটনা প্রমাণ করে পরিস্থিতি বিপজ্জনক করার ক্ষেত্রে হুথিরা কতটা চরম পথ বেছে নিয়েছে।

তিনি সতর্ক করেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক অস্থিতিশীলতা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত করছে, যার সরাসরি আর্থিক চাপ পড়ছে সাধারণ পরিবার ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ওপর।

এদিকে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি ঘোষণা দিয়েছেন যে, সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যবস্তুতে তাদের এই আক্রমণাত্মক তৎপরতা ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।