অক্টোবর ২০, ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
রাজশাহীতে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সব কলকারখানা ও উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় সচল করতে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।
কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে শিল্পের পুনরুজ্জীবন অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, রাজশাহী অঞ্চল চারদিকে উর্বর কৃষিজমিতে ভরপুর। এখানে ব্যাপক পরিমাণে আখ ও রকমারি শাকসবজি উৎপাদিত হয়। অথচ এই অঞ্চলে থাকা সুগার মিল, টেক্সটাইল মিল, জুট মিল ও ঐতিহাসিক রেশম মিলের মতো সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে স্থবির ও বন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বর্তমান বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই এসব বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান নতুন করে চালু করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই কলকারখানাগুলো পুরোপুরি উৎপাদনে ফিরলে স্থানীয় পর্যায়ে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং সামগ্রিকভাবে রাজশাহীর স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
নিম্নআয়ের পরিবার ও প্রান্তিক কৃষকদের সুরক্ষায় বিশেষ সামাজিক কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন তিনি।
রিজভী উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারেক রহমান দেশব্যাপী ‘কৃषक কার্ড’ ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছেন। এই কাঠামোর আওতায় সমাজের দরিদ্র ও সীমিত আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য সরাসরি আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। কর্মসূচির অধীনে একজন দরিদ্র মানুষ ন্যূনতম দুই হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, যা তাঁদের নিত্যদিনের আয়ের ক্ষেত্রে সহায়ক ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনমানের পরিবর্তনই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা আরও জানান, দেশের প্রতিটি কৃষক ও সাধারণ নাগরিকের জীবনযাত্রার মান টেকসইভাবে উন্নত করা এবং তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নিয়েই তারেক রহমান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলো সেই দূরদর্শী পরিকল্পনারই বাস্তব প্রতিফলন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন