মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

অর্থনীতি শক্তিশালী করাই সংস্কারের মূল লক্ষ্য: ড. তিতুমীর

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২০, ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম

অর্থনীতি শক্তিশালী করাই সংস্কারের মূল লক্ষ্য: ড. তিতুমীর

নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক সুরক্ষার পরিধি বিস্তার এবং উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে মজবুত করাই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

সোমবার রাজধানীতে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) আয়োজিত ‍‍`ইএসজি প্ল্যাটফর্ম‍‍`-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সরকারের এই নীতিগত অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, অস্বাভাবিক মূল্যস্ফীতি, উচ্চ বেকারত্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের মতো বহুমুখী আন্তর্জাতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। এসব প্রতিকূলতা কাটিয়ে দেশকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে ফিরিয়ে আনতে পরিকল্পিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

দেশের অতীত সংকট উত্তরণের ইতিহাস স্মরণ করে ড. তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে নতুন আয়ের পথ ও ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর নজির রয়েছে।

১৯৭৫ সালের পরবর্তী সময়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি, দুর্ভিক্ষ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নতুন অর্থনৈতিক কাঠামো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সূচনা করেছিলেন। পরবর্তীতে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে আনুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে নারীর ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে যুগান্তকারী অগ্রগতি অর্জিত হয়।

উপদেষ্টা জানান, বর্তমানে শিক্ষিত ও তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই অর্থনীতির সবচেয়ে বড় কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ।

শিক্ষা, প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের বাইরে থাকা একটি বড় অংশই নারী। ফলে জাতীয় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে তরুণ সমাজ ও নারীদের উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা ছাড়া বিকল্প নেই।

সরকারের চলমান কল্যাণমূলক পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই কৃষকদের ঋণের বোঝা লাঘবে কৃষিঋণ মওকুফ, সাধারণ মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তন এবং শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য খাতে সরকারি বরাদ্দের হার বৃদ্ধির কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচি নিম্ন আয়ের পরিবারের ওপর তৈরি হওয়া জীবনযাত্রার ব্যয়ভার কমাতে সহায়ক হবে।

স্বাধীন গবেষণা সংস্থাগুলোর পর্যালোচনা উদ্ধৃত করে তিনি জানান, পাঁচ বছর মেয়াদে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে চালু রাখা সম্ভব হলে দেশে দারিদ্র্যের হার লক্ষণীয় মাত্রায় কমে আসবে।

বিগত সরকারের নীতিগত ব্যর্থতার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, কার্যকর উদ্যোগের অভাব ও ভুল অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে বিগত বছরগুলোতে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।