মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

হুতির ওপর ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৬৪ হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ২০, ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম

হুতির ওপর ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৬৪ হামলা

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে হুতিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান জোরদার করে নতুন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থান পুনর্দখলের দাবি করেছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনী।

গত চব্বিশ ঘণ্টায় হুতিদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে অন্তত এক হাজার ১৬৪টি সমন্বিত আক্রমণ পরিচালনা করা হয়েছে। এসব হামলায় সশস্ত্র এই গোষ্ঠীটির আনুমানিক ৫৫৮ জন যোদ্ধা নিষ্ক্রিয় হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা বাহিনী।

আরব নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আল-নুজাইলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই সামরিক অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি বাহিনীর পরিচালিত ‍‍`ডন অব ইয়েমেন‍‍` অভিযানের আওতায় বিমানবাহিনী ও গোলন্দাজ বহরের প্রবল সমর্থনে তাইজে হুতি বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করা হয়েছে।

সামরিক কর্তৃপক্ষের দাবি, অভিযান চলাকালে হুতিদের অন্তত ১৩৫টি সামরিক যান ও যুদ্ধ সরঞ্জাম ধ্বংস অথবা অচল করে দেওয়া হয়েছে। গোষ্ঠীটির সেনা জমায়েত, অস্ত্রাগার, অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর প্রবেশপথ, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং লজিস্টিক সরবরাহ রুট লক্ষ্য করে এসব হামলা পরিচালিত হয়।

মুখপাত্র জানান, আধুনিক যুদ্ধবিমান, ড্রোন, স্থলভিত্তিক গোলন্দাজ কামান, রকেট লঞ্চার এবং সুনির্দিষ্ট স্নাইপার ইউনিট সমন্বিতভাবে ব্যবহার করে হামলাগুলো চালানো হয়। এতে হুতিদের দূরপাল্লার গোলাবর্ষণ ব্যবস্থা ও রসদ সরবরাহ নেটওয়ার্ক মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে।

তাইজের পাশাপাশি দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় যুদ্ধক্ষেত্র ও তেলসমৃদ্ধ শাবওয়া প্রদেশেও বিদ্রোহী এই গোষ্ঠীর অবস্থান লক্ষ্য করে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে সেনাবাহিনী।

সামরিক মুখপাত্রের ভাষ্যমতে, এসব ব্যবস্থার ফলে হুতিদের গতিবিধি চরমভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে, যার কারণে তারা নতুন করে সংগঠিত হওয়া কিংবা অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছে না।

পশ্চিম উপকূল এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিকটবর্তী এলাকায় হুতিদের সব ধরনের অগ্রযাত্রা প্রতিহত করার দাবি করেছে সরকারি বাহিনী।

সেখানে হুতিদের অবস্থান ও সেনা সমাবেশ লক্ষ্য করে উপর্যুপরি আক্রমণ চালানো হয়েছে।

আল-নুজাইলি দাবি করেন, সর্বশেষ অভিযানে নিষ্ক্রিয় হওয়া ৫৫৮ যোদ্ধার মধ্যে গোষ্ঠীটির কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মাঠপর্যায়ের সামরিক কমান্ডারও রয়েছেন। একই সাথে তিনি দাবি করেন, এই বৃহৎ অভিযানে সাধারণ বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও বেসামরিক অবকাঠামো সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সামরিক সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।

গত ৫ অক্টোবর ‍‍`ডন অব ইয়েমেন‍‍` নামের এই সম্মিলিত সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার এবং ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত এক নতুন মাত্রায় রূপ নিয়েছে।

ইয়েমেনের বৈধতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত সামরিক জোট এই অভিযানে সরাসরি আকাশপথে যুদ্ধবিমান সহায়তা দিয়ে আসছে।

বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলগুলো মুক্ত করা এবং রাজধানী সানাসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাই এই যৌথ সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য।

এদিকে রণক্ষেত্রে তীব্র চাপ সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব এবং ইয়েমেনি বাহিনীর বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে হুতিরা।

সামরিক মুখপাত্র জানান, সোমবার শাবওয়া প্রদেশের একটি সামরিক ক্যাম্প লক্ষ্য করে একযোগে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে হুতি বিদ্রোহীরা।