মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

পদ্মা ও তিস্তায় ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ২০, ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম

পদ্মা ও তিস্তায় ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেশের দীর্ঘস্থায়ী পানিসম্পদ সংকট দূর করতে পদ্মা ও তিস্তা নদীতে পৃথক দুটি সুবিশাল ব্যারাজ নির্মাণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সরকারের এই বৃহৎ অবকাঠামোগত পরিকল্পনার কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রাজশাহীর পদ্মা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ শুকিয়ে গিয়ে পানির স্বাভাবিক সঞ্চালন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সেই সংকট বিবেচনায় এনে তিস্তা এবং রাজশাহীর পদ্মা নদীতে আধুনিক ব্যারাজ নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার।

তিনি আশ্বস্ত করেন, এই দুটি মেগা প্রকল্পের নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু করা হবে এবং তা সফলভাবে সম্পন্ন করা হবে।

নদীর পানির ন্যায্য অংশ আদায়ে আন্তর্জাতিক তৎপরতার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, যারা এই সংকট তৈরি করেছে তাদের সাথে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু করবে সরকার। বাংলাদেশের জনগণের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে যতটা দূর যাওয়া প্রয়োজন সরকার সে পর্যন্ত যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের প্রায় চার হাজারের কাছাকাছি আখচাষিকে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে, যাতে আগামী মৌসুমে তাদের উৎপাদন ব্যয় ও কষ্ট লাঘব হয়।

কৃষক বাঁচলে দেশের কৃষি টিকে থাকবে বলে তিনি দৃঢ় অভিমত ব্যক্ত করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের বিপুল সমর্থনে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। দলের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল প্রান্তিক কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো।

সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সরকার গঠনের মাত্র সাত দিনের মাথায় সুদসহ সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ কার্যকর করা হয়। এর ফলে সারা দেশের প্রায় ১৩ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।

সারাদেশে পানিসম্পদ পুনর্বাসনের লক্ষ্যে পুনরায় খাল খনন এবং নদী সংস্কার কর্মসূচি জোরদার করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে এই কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে।

আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী মোট ২০ হাজার কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খাল খনন ও পুনঃখননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে গত আট মাসে সফলভাবে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার খালের খননকাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।