অক্টোবর ২০, ২০২৬, ০৯:২২ পিএম
সারাদিনের আলাপচারিতা বিশ্লেষণ করে জরুরি কাজ, দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও করণীয় সময়মতো মনে করিয়ে দিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত দুটি নতুন ডিভাইস বাজারে এনেছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন। গত ১৫ অক্টোবর ‘বি’ ব্র্যান্ডের আওতায় এই পরিধানযোগ্য যন্ত্র দুটি উন্মোচন করা হয়।
যন্ত্রগুলোর একটি হলো ৭৫ ডলার মূল্যের ব্রেসলেট ‘ফ্রন্টিয়ার’, যা কবজিতে পরে থাকা যায়। অন্যটি ১০০ ডলারের ‘ইক্লিপস’, যা চুম্বকীয় সুবিধায় স্মার্টফোনের পেছনে যুক্ত করে ব্যবহার করা যাবে। গত বছর এই ‘বি’ ব্র্যান্ডটি অধিগ্রহণ করে অ্যামাজন।
অ্যামাজনের ডিভাইস বিভাগের প্রধান পানোস পানাই জানান, যন্ত্রগুলো সক্রিয় থাকলে সারাদিনের স্বাভাবিক কথাবার্তা থেকে কাজের বিবরণ আলাদা করতে পারে। এর ফলে প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা করে অ্যালার্ম বা রিমাইন্ডার নির্ধারণের ঝামেলা কমে আসবে।
ডিভাইসগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্যালেন্ডার, স্মার্টফোনের বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দায়িত্বের তালিকা তৈরি করে। কখন যন্ত্রটি চালু থাকবে তা নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ ব্যবহারকারীর হাতেই থাকছে। এমনকি চাইলে আগের যেকোনো রেকর্ড ও সংরক্ষিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে মুছে ফেলার সুবিধাও রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি অ্যামাজনের সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক ভয়েস সেবা ‘অ্যালেক্সা প্লাস’-এর সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করতে পারে।
তবে দিনভর কথোপকথন রেকর্ড করার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষার প্রশ্ন উঠেছে।
অ্যামাজন অবশ্য দাবি করেছে, যন্ত্র দুটি স্থায়ীভাবে কোনো অডিও সংরক্ষণ করে না। তবে প্রক্রিয়াগত তথ্যগুলো ডিফল্টভাবে ১৪ দিন পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকে। এর চেয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য তথ্য জমা রাখতে চাইলে প্রতি মাসে ব্যবহারকারীকে ১২ ডলার দিয়ে সাবস্ক্রিপশন নিতে হবে। তবে এই ১৪ দিন ঠিক কোন ধরনের তথ্য সেখানে জমা থাকে, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এর আগে প্রতিষ্ঠানের অ্যালেক্সা ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট ঘিরেও বিশ্বজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ২০১৯ সালে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত আলাপচারিতা পর্যালোচনার কাজে হাজারো কর্মীকে যুক্ত করার তথ্য গণমাধ্যমে ফাঁস হয়। ওই ঘটনায় অ্যামাজনকে যুক্তরাষ্ট্রে যৌথ মামলার মুখে পড়তে হয়েছিল। যদিও প্রতিষ্ঠানটি সবসময়ই কোনো অনিয়ম করার অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। বর্তমান ডিভাইসগুলোতেও একই ধরনের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
পরিধানযোগ্য এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় অ্যামাজন একা পথ চলছে না।
সামাজিক মাধ্যম জায়ান্ট মেটাসহ বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন এই খাতে বিপুল বিনিয়োগ করছে। মেটা ইতিমধ্যে ক্যামেরা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেন্সরযুক্ত চশমার পাশাপাশি স্মার্ট পেনড্যান্টের মতো বিভিন্ন গ্যাজেট বাজারে আনতে কাজ করছে।
অন্যদিকে নিজস্ব হার্ডওয়্যার পণ্যের বিস্তার বাড়াতে সম্প্রতি আগের চেয়ে উচ্চমূল্যের ট্যাবলেট কম্পিউটার উন্মোচন করেছে অ্যামাজন। সেই সঙ্গে প্রায় এক দশক আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া ব্যর্থ ফায়ার ফোনের অভিজ্ঞতা কাটিয়ে আবারও নতুন করে স্মার্টফোন বাজারে নামার কৌশলগত সম্ভাবনা যাচাই করছে প্রতিষ্ঠানটি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন